ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভারত শেখ হাসিনাকে ফেরত দেবে না: নয়াপল্টনে গয়েশ্বর রায় এক দিনে হামের উপসর্গে ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত সহস্রাধিক খাইবার পাখতুনখোয়ায় পুলিশ চেকপোস্টে বোমা হামলা: নিহত ১১ জাসদ কার্যালয়ের সামনে থেকে তিনশ' ব্যক্তি আটক, যাচাই-বাছাই শুরু ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৪৩২ মিয়ানমারের গণহত্যা মামলার রায় ঘোষণা হতে পারে আগামী মাসে মিরপুরে রাড্ডা সেন্টার ধ্বংসের ঘটনায় তদন্ত কমিটি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান মন্ত্রণালয়ের পাকিস্তানি সাংবাদিকের উসকানিমূলক প্রশ্নের কড়া জবাব দিলেন এস জয়শঙ্কর এআই দিয়ে বার্তা পাঠিয়ে ব্যাংক থেকে কোটি কোটি ইউরো গায়েব

ধানমন্ডিতে আ.লীগের ঝটিকা মিছিল ও ককটেল হামলা: আটক ৪


  • আপলোড সময় : শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৩:৩৮ পিএম

রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকা ধানমন্ডিতে প্রকাশ্য দিবালোকে আকস্মিক এক ঝটিকা মিছিল ও পরপর কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এই ঝটিকা মিছিলের আয়োজন করেছিলেন। হঠাৎ করে সংঘটিত এই ককটেল বিস্ফোরণ এবং আকস্মিক বিশৃঙ্খলার কারণে ধানমন্ডি ও এর আশেপাশের জনবহুল সড়কে চলাচলকারী সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাৎক্ষণিক, সাহসী ও কঠোর পদক্ষেপে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা বা প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে এবং পুলিশ এই ঝটিকা মিছিল থেকে জড়িত সন্দেহে মোট চারজনকে আটক করেছে।


ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার ঠিক আগমুহূর্তে রাজধানীর ধানমন্ডি থানার ২৭ নম্বর এলাকার সুপরিচিত বাটা শোরুমের সামনে এই আকস্মিক ঝটিকা মিছিলটি বের করা হয়। মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের বিতর্কিত সদস্য সচিব তারেকুজ্জামানের সরাসরি নেতৃত্বে এই মিছিলের কর্মসূচি পরিচালিত হয়। প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মিছিলটি রাজধানীর অন্যতম প্রধান ও ব্যস্ততম সাত মসজিদ রোড এলাকা থেকে শুরু হয়ে ধানমন্ডি ইবনে সিনা হাসপাতালের সামনে দিয়ে অগ্রসর হয়ে বাটা শোরুমের নিকটবর্তী স্থানে এসে সমাপ্ত হয়। মিছিল চলাকালীন হঠাৎ করেই বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়, যা পুরো এলাকায় আকস্মিক আতঙ্ক ও থমথমে পরিবেশ সৃষ্টি করে। কর্মসূচি শেষ করে বিশৃঙ্খলাকারীরা বিভিন্ন অলিগলি দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে তাদের পিছু নেয়।


এই নাশকতামূলক ও বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ডের পর পুলিশ অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তৎপর হয়ে ওঠে এবং ঘটনাস্থল ও এর আশপাশের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে মোট চারজন কর্মীকে আটক করতে সক্ষম হয়। এর মধ্যে তিনজনকে আটক করেছে ধানমন্ডি থানা পুলিশ এবং অপর একজনকে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ গ্রেফতার করে। মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের হাতে আটক হওয়া এই ব্যক্তির নাম ইমরান বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটককৃতদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এই হুটহাট ঝটিকা মিছিল ও নাশকতার নেপথ্যে মূল পরিকল্পনাকারীরা কারা রয়েছেন, তা উদঘাটনে নিবিড় তদন্ত চলছে।


ঘটনার সত্যতা ও আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে নিশ্চিত করে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব গণমাধ্যমকে জানান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও একটি রাজনৈতিক দল আকস্মিকভাবে নিয়মবহির্ভূতভাবে ঝটিকা মিছিল বের করে এবং জনমনে ভীতি সৃষ্টির অসৎ উদ্দেশ্যে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। মিছিল সমাপ্ত করে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার সময় নিরাপত্তা বাহিনী তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে একটি রাজনৈতিক ব্যানারও উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে, মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম গণমাধ্যমকে জানান, ধানমন্ডি এলাকায় সংঘটিত এই ঝটিকা মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ শুরু থেকেই অত্যন্ত তৎপর ছিল এবং পলায়নরত অবস্থায় মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ইমরান নামের একজনকে আটক করা হয়েছে।


সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দেশের বর্তমান স্থিতিশীল পরিস্থিতিতে এ ধরনের আকস্মিক ঝটিকা মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের মাধ্যমে নগরবাসীর মনে আতঙ্ক সৃষ্টির অপচেষ্টা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। জননিরাপত্তা সুদৃঢ় করতে এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা কঠোরহস্তে দমন করতে রাজধানীর প্রতিটি মোড়ে ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশি টহল, চেকপোস্ট এবং গোয়েন্দা নজরদারি বহুলাংশে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণের কাজ বর্তমানে দ্রুতগতিতে চলমান রয়েছে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর