রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র গুলিস্তানের জিপিও মোড় সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভেতর থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মীকে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে আটক করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে অত্যন্ত নাটকীয় পরিস্থিতিতে এই বিশাল সংখ্যক নেতাকর্মীকে একযোগে আটক করা হয়, যা রাজধানীজুড়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই আত্মগোপনে থাকা দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা অত্যন্ত গোপনে সংগঠিত হওয়ার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার দুপুরের দিকে রাজধানীর অন্যতম প্রধান ও ব্যস্ততম বাণিজ্যিক পয়েন্ট গুলিস্তান জিপিও মোড় এলাকার জাসদ কার্যালয়ের ভেতরে জড়ো হয়ে তারা একটি গোপন বৈঠকে মিলিত হন। রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড বা রাজধানীতে নতুন করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এই গোপন বৈঠক চলছে—এমন সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিএমপির একটি বিশেষ ও চৌকস টিম সেখানে অতর্কিত অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে পুরো কার্যালয়টি ঘিরে ফেলে এবং ভেতর থেকে শতাধিক নেতাকর্মীকে হাতেনাতে আটক করে। পরবর্তী সময়ে তাৎক্ষণিক যাচাই-বাছাই শেষে তাদের কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বিভিন্ন থানায় স্থানান্তর করা হয়।
রাজধানীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা এবং জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন শুরু থেকেই অত্যন্ত কঠোর ও আপসহীন নীতি অনুসরণ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলগুলোর বিভিন্ন গোপন আস্তানা, কার্যালয় বা আড়ালে থেকে চালানো বৈঠকের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
তারই সফল পরিণতি হিসেবে গুলিস্তানের মতো একটি জনবহুল ও স্পর্শকাতর স্থানে রাজনৈতিক কার্যালয় ব্যবহার করে গোপনে কোনো নাশকতামূলক পরিকল্পনা সাজানোর এই অপচেষ্টা পুলিশ অত্যন্ত সফলভাবে ভেস্তে দিয়েছে। আটককৃতদের থানায় নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এই গোপন সভার নেপথ্যে মূল অর্থ জোগানদাতা, পরিকল্পনাকারী ও সংগঠক কারা ছিলেন, তা উদঘাটনে মাঠে নেমেছে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা। এছাড়া কার বা কাদের ছত্রছায়ায় বা অনুমতিতে জাসদের এই কেন্দ্রীয় কার্যালয়টি এ ধরনের গোপন বৈঠকে ব্যবহার করা হচ্ছিল, সে বিষয়েও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হয়েছে।
গুলিস্তানের জিপিও মোড়ের মতো অত্যন্ত সুরক্ষিত ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একটি রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভেতর থেকে একসঙ্গে শতাধিক নেতাকর্মী আটকের এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর পুরো জিরো পয়েন্ট ও এর আশেপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওই অঞ্চলে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। জনগণের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার যেকোনো হীন অপচেষ্টা কঠোরহস্তে দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বদা তৎপর রয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় মামলা দায়ের এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে দ্রুতগতিতে চলমান রয়েছে।