হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, তেহরানের দেওয়া সাত দিনের প্রস্তাব নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ইরান জানতে পেরেছে। তবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এখনো ওয়াশিংটনের চূড়ান্ত অবস্থান তেহরানের কাছে পৌঁছায়নি।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সাত দিনের রোডম্যাপ প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, ইরান ‘খুব খারাপভাবে হারছে’ এবং তেহরানের প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয়। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে আস্থার সংকটের কথা জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান।
শনিবার ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা আইআরএনএকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাগচি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, নিউইয়র্কে বৈঠকের সময় হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার জন্য ইরানের শর্তগুলো মধ্যস্থতাকারীদের কাছে তুলে ধরা হয়েছিল। পরে তারা সেই শর্তগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেয়। আরাগচি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ইরান শুনেছে। কিন্তু মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বার্তা পাওয়া যায়নি। ওয়াশিংটনের চূড়ান্ত অবস্থান জানার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে তেহরান।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তেহরানের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করাই প্রধান বিষয়। তার ভাষায়, ইরানের শর্তগুলো পরিষ্কার এবং এসব শর্ত পূরণ না হলে প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয়ে অগ্রগতি হবে না।
ইরানের নতুন সাত দিনের প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালিতে এক সপ্তাহের মধ্যে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালুর একটি ধাপভিত্তিক পরিকল্পনা দেওয়া হয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছাড়, ইরানি তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের মতো পদক্ষেপ নিতে হবে। এসব শর্ত পূরণ হলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে একটি চূড়ান্ত সমঝোতা নিয়ে আলোচনা শুরুর কথা জানিয়েছে তেহরান।
আরাগচি বলেন, কূটনৈতিক আলোচনার পথই সংকট সমাধানের কার্যকর উপায়। ইরান সম্মান, ন্যায়বিচার এবং ইরানি জনগণের অধিকার নিশ্চিত করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে কোনো ধরনের চাপের মুখে নিজেদের অধিকার ছাড়বে না তেহরান। তিনি আরও জানান, চাপ প্রয়োগ করা হলেও ইরান কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাবে। একই সঙ্গে দেশের অধিকার ও স্বার্থের বিষয়ে কোনো ছাড় না দেওয়ার অবস্থানও অব্যাহত থাকবে।
এর আগে শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাত দিনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন বলে জানানো হয়। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প প্রস্তাবটির শর্তকে গ্রহণযোগ্য নয় বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ইতোমধ্যে ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে। ইরান চুক্তিতে যেতে চাইছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শুক্রবার নিউইয়র্কে আরাগচি জানিয়েছিলেন, তেহরানের শর্ত পূরণ করা হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে যে পদক্ষেপ নিতে হবে, সেগুলো জুনে দুই দেশের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকেই উল্লেখ রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তখন বলেছিলেন, পরিকল্পনাটি গ্রহণের সিদ্ধান্ত এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে হরমুজ প্রণালির স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বৃহত্তর আলোচনার পথও খুলতে পারে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি