ইথিওপিয়ার সামরিক প্রধানের তোলা একটি বিস্ফোরক অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য দাবি করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে সুদানের সেনাবাহিনী। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, রবিবার রাতে সুদানের সশস্ত্র বাহিনী এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে যে তারা আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলে এবং অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার নীতিতে বিশ্বাসী নয়। তবে সুদান নিজের জাতীয় নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্বের ওপর আসা যেকোনো ধরনের হুমকি কঠোর হস্তে দমন করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করবে না।
পাল্টা অভিযোগ এনে সুদানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, ইথিওপিয়ার মাটি ব্যবহার করে সুদানের আধাসামরিক বাহিনী ‘র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস’ (আরএসএফ)-কে ক্রমাগত মদদ দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে আরএসএফ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, রসদ সরবরাহ করা এবং দীর্ঘ পাল্লার ও আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহারের মতো বিপজ্জনক সামরিক কার্যক্রমে সহায়তা করার ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমিত করতে সুদান সরকার ও সেনাবাহিনী অ্যাডিস আবাবাকে দূরত্বের নীতি পরিহার করে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে সব ধরনের মতভেদ দূর করার আহ্বান জানিয়েছে।
এর আগে ইথিওপিয়ার ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্সের চিফ অব জেনারেল স্টাফ ফিল্ড মার্শাল বিরহানু জুলা একটি প্রকাশ্য বিবৃতিতে সুদান, মিসর এবং অন্যান্য কিছু আঞ্চলিক শক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, এই দেশগুলো ইথিওপিয়া সরকারের বিরোধী দল ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে পেছন থেকে উসকানি ও সমর্থন দিচ্ছে। ফিল্ড মার্শাল জুলা আরও উল্লেখ করেন যে, বিদেশী শক্তির মদদ না থাকলে ইথিওপিয়ার বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘টাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট’ (টিপিএলএফ) কিংবা প্রতিবেশী দেশ ইরিত্রিয়া কোনোভাবেই তাদের দেশের জন্য বড় কোনো নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করতে পারত না।
উল্লেখ্য, উত্তর ইথিওপিয়ায় যখন ফেডারেল বাহিনীর সাথে টিপিএলএফ এবং তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সশস্ত্র সংঘর্ষ পুনরায় তীব্র রূপ নিয়েছে, ঠিক তখনই দুই দেশের মধ্যে এই নতুন কূটনৈতিক ও সামরিক বাদানুবাদ তৈরি হলো। সুদান মনে করে, এই ধরনের ভিত্তিহীন কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে সামগ্রিক অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে উভয় দেশের দায়িত্বশীল আচরণ করা অত্যন্ত জরুরি।