ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় পুনরায় অবৈধ ইসরায়েলি বসতি গড়ে তোলার দাবিতে দেশটির হাজার হাজার কট্টরপন্থী ইহুদি দখলদারদের সাথে যোগ দিয়েছেন উগ্রপন্থী মন্ত্রী ও আইনপ্রণেতারা। ইসরায়েলের চ্যানেল ৭-এর বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, গত রবিবার গাজা সীমান্তের দিকে হাজার হাজার ইসরায়েলি দখলদারের একটি বিশাল গাড়ি বহর ও পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। ২০০৫ সালে গাজা থেকে উচ্ছেদ হওয়া অবৈধ ইসরায়েলি বসতিগুলোতে আবারও ফিরে যাওয়ার দাবিতে এই উগ্রপন্থী বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়।
‘নাচালা সেটেলমেন্ট মুভমেন্ট’ এবং বেশ কয়েকটি ডানপন্থী সংগঠনের যৌথ নেতৃত্বে এই গাড়ি বহরটি উত্তর গাজা সীমান্তের কাছে একটি সমাবেশ স্থলের দিকে অগ্রসর হয়। আয়োজকরা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের ওপর গাজায় পুনরায় ইহুদি বসতি স্থাপনের জন্য তীব্র চাপ সৃষ্টি করছেন। তাদের দাবি, গাজা উপত্যকায় দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সেখানে স্থায়ীভাবে ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিকদের বসতি স্থাপন করা জরুরি।
পদযাত্রায় অংশ নেওয়া নাচালা আন্দোলনের শীর্ষ নেত্রী দানিয়েলা ওয়েইস বলেন, হাজার হাজার ইসরায়েলি নাগরিক ঘরবাড়ি তৈরির সরঞ্জাম নিয়ে গাজা সীমান্তের দিকে আসছেন। তারা ২০০৫ সালের আগস্টে ভেঙে দেওয়া উত্তর গাজার ‘নিসানিত’ বসতিসহ পুরো উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ইহুদিদের আধিপত্য ও উপস্থিতি প্রতিষ্ঠার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে ইসরায়েল একতরফাভাবে গাজা থেকে তাদের সমস্ত অবৈধ বসতি ও সেনা প্রত্যাহার করে নিয়েছিল।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজায় ইসরায়েলি বর্বর হামলায় এ পর্যন্ত প্রায় ৭৪ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত এবং প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন বলে গাজার স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও গাজায় ইসরায়েলের এই রক্তক্ষয়ী সামরিক অভিযান ও হামলা অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যেই ইসরায়েলের খোদ সরকারি মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের উস্কানিতে গাজা দখলের এই নতুন অপচেষ্টা শুরু হলো।