যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহার রোধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির শীর্ষ প্রযুক্তি ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, মার্কিন কর্মীদের ছাঁটাই করে কম বেতনে বিদেশি কর্মী নিয়োগের সংস্কৃতি আর কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। নিয়ম অমান্যকারী যেকোনো কোম্পানির জন্য মার্কিন ভূখণ্ডে ব্যবসা পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন ও জটিল করে তোলা হবে বলে কঠোর বার্তা দিয়েছেন তিনি।
গত রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে এমন অনেক করপোরেট প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা একদিকে দেদারছে কর্মী ছাঁটাই করছে, আবার অন্যদিকে কর্মী সংকটের মনগড়া অজুহাত দেখিয়ে এইচ-১বি ভিসার জন্য আবেদন করছে। এই দ্বিমুখী নীতি অত্যন্ত হাস্যকর ও অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন তিনি। ভ্যান্স স্পষ্ট করে বলেন যে, এইচ-১বি ভিসার মূল ও একমাত্র উদ্দেশ্য হলো মার্কিন অর্থনীতিকে আরও বেশি গতিশীল ও সমৃদ্ধ করা; স্থানীয় দক্ষ কর্মীদের চাকরিচ্যুত করে তাদের স্থলাভিষিক্ত করার জন্য কম বেতনের বিদেশি কর্মী আমদানি করা এই কর্মসূচির লক্ষ্য নয়।
ভ্যান্সের এই ভিডিওবার্তা মূলত গত ১৮ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত একটি নতুন নির্বাহী আদেশের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা। ওই নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, এখন থেকে কোনো কোম্পানি এইচ-১বি ভিসার আবেদন করলে কেন্দ্রীয় সরকারের শ্রম মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে ওই কোম্পানির অতীতে কর্মী ছাঁটাইয়ের রেকর্ড কঠোরভাবে পর্যালোচনা করবে। অর্থাৎ, চাকরিচ্যুত করার ইতিহাস রয়েছে এমন কোনো প্রতিষ্ঠান সহজে বিদেশি কর্মী আনার অনুমোদন পাবে না।
উল্লেখ্য, এইচ-১বি হলো একটি বিশেষ অস্থায়ী ভিসা কর্মসূচি, যার মাধ্যমে মার্কিন ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশলবিদ্যা এবং ব্যবসা প্রশাসনের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ দিয়ে থাকে। ২০০৪ সাল থেকে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের আওতায় প্রতি বছর নির্দিষ্ট কোটায় ৮৫ হাজার বিদেশি নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের এবং কাজ করার আইনি অনুমতি দেওয়া হয়। মার্কিন পরিসংখ্যান বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অ্যামাজন, মাইক্রোসফট, মেটা, অ্যাপল এবং গুগলের মতো বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি জায়ান্টগুলো এই ভিসা কর্মসূচির সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী বা লাভবান প্রতিষ্ঠান।
অতীতে এই প্রোগ্রামে নিবন্ধিত কোম্পানিগুলোকে ভিসা ফি বাবদ নামমাত্র ১ হাজার ৫০০ ডলার পরিশোধ করতে হতো। তবে মার্কিন অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি আরোপের অংশ হিসেবে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সেই ফি নাটকীয়ভাবে বাড়িয়ে ১ লাখ ডলারে উন্নীত করা হয়। বর্তমান প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের ফলে মার্কিন করপোরেট সেক্টরে বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী ও বড় ধরনের প্রভাব পড়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।