মালয়েশিয়ার
রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের
অত্যন্ত পরিচিত, শ্রদ্ধেয় ও মহীয়সী নারী—দেশটির দীর্ঘসময়ের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তুন ড. মাহাথির মোহাম্মদের
প্রিয়তমা স্ত্রী তুন ড. সিতি হাসমাহ
মোহাম্মদ আলী আর আমাদের মাঝে
নেই। এক শতাব্দী তথা
শতবর্ষ পূর্ণ করার পর জীবনের দীর্ঘ
অধ্যায় পেরিয়ে চিরবিদায় নিলেন তিনি। কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় এই বরেণ্য ব্যক্তিত্ব
শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তার এই প্রয়াণে মালয়েশিয়াসহ
আন্তর্জাতিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বিশিষ্ট
সাংবাদিক আহমাদুল কবিরের পাঠানো প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংবাদমাধ্যম নিউ স্ট্রেইটস টাইমস জানিয়েছে, গত সোমবার কুয়ালালামপুরের
ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউট বা আইজেএন-এ
চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিতি হাসমাহ মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল একশ বছর। তার শোকাবহ এই মৃত্যুর সংবাদটি
গণমাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন তার সুযোগ্য পুত্র তান শ্রী মোখজানি মাহাথির। অভিভাবকসম এই নারীর প্রয়াণে
শোকের মাতম চলছে তার পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীদের মাঝে।
এদিকে
অত্যন্ত মর্মান্তিক এক কাকতালীয় পরিস্থিতিতে
তার মৃত্যুর খবরটি প্রকাশ পায়। দেশটির সংসদ ভবনে যখন একটি গুরুত্বপূর্ণ টাউনহল অধিবেশন চলছিল, ঠিক সেই সময়ই সিতি হাসমাহর মৃত্যুর সংবাদটি সেখানে ঘোষণা করা হয়। এই অপ্রত্যাশিত সংবাদে
উপস্থিত আইনপ্রণেতা ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে গভীর
বিস্ময় ও শোকের সৃষ্টি
হয়। পরবর্তীতে সংসদের উচ্চপর্যায়ের সেই অধিবেশনেই তার বর্ণাঢ্য স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয় এবং তার
বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে একটি সংক্ষিপ্ত দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত
হয়।
তুন
ড. সিতি হাসমাহ কেবল একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জীবনসঙ্গী হিসেবেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, বরং তিনি নিজে একজন নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসক হিসেবেও মালয়েশিয়ার সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ও কল্যাণে অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। স্বামী ড. মাহাথির মোহাম্মদের
দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক
জীবনের প্রতিটি কঠিন ও সংকটময় মুহূর্তে
তিনি ছায়ার মতো পাশে থেকেছেন। দেশ ও জাতির সেবায়
তার অনন্য অবদান মালয়েশিয়ার ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।