আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইয়েমেনে সরকারি বাহিনী ও ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘাতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে সেনাবাহিনীর তীব্র ও ধারাবাহিক অভিযানে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে শত শত যোদ্ধা হতাহত হয়েছেন বলে সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
গত সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইয়েমেনের প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজিদ আল-নুজাইলি এই তথ্য প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, গত শনিবার থেকে রোববার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশের উত্তর প্রান্ত থেকে শুরু করে পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূল, দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলের বিস্তৃত এলাকায় মোট ১০টি ফ্রন্টে প্রায় ৩৫৬টি সফল সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী।
যে ১০টি ফ্রন্টে এই তীব্র সংঘর্ষ হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে পশ্চিম উপকূলের হারাধ, হাজ্জাহ প্রদেশের আল-তুয়াল, উত্তরাঞ্চলীয় সা’দা প্রদেশের কাতিফ, আল বাকা ও আল্ব, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আল জাউফ, পূর্বাঞ্চলীয় মারিব, দক্ষিণঞ্চলীয় লাহজ, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ এবং মধ্যাঞ্চলীয় আল বায়দা জেলা। এই ব্যাপক সামরিক অভিযানে হুথিদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড সেন্টার, অস্ত্র ও রসদের ডিপো, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং বিপুল পরিমাণ সামরিক যানবাহন সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে।
কর্নেল আল-নুজাইলি আরও জানান, এই অভিযানে যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিভিন্ন ভারী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। তবে হতাহতদের মধ্যে ঠিক কতজন নিহত এবং কতজন আহত হয়েছেন, তার সুনির্দিষ্ট আলাদা পরিসংখ্যান এক্স পোস্টে উল্লেখ করা হয়নি। এর আগে গত রোববার সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া তথ্যে তিনি জানিয়েছিলেন যে, তার আগের ৭২ ঘণ্টার অভিযানে দুই হাজারের বেশি হুথি যোদ্ধা হতাহত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সাল থেকে শুরু হওয়া ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধে ২০১৫ সালে রাজধানী সানা দখল করে নেয় হুথিরা। এরপর থেকেই সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী লড়াই চলছে। বর্তমানে দেশটির উত্তরাঞ্চলের অর্ধেকের বেশি অংশ হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দক্ষিণাঞ্চল সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের অধীনে রয়েছে। হারানো ভূখণ্ড উদ্ধারে গত জুলাই মাস থেকে সর্বাত্মক অভিযান পরিচালনা করছে দেশটির সেনাবাহিনী। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি