ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৮২ জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান

ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়াতে রেথিয়নের সঙ্গে বিশাল চুক্তি করল পেন্টাগন


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৯:২৩ এএম

মার্কিন সামরিক বাহিনীর আকাশযুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে তুলতে এবং অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের গতি নাটকীয়ভাবে ত্বরান্বিত করতে এক বিশাল অঙ্কের প্রতিরক্ষা চুক্তির ঘোষণা দিয়েছে পেন্টাগন। বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান আরটিএক্স (RTX)-এর মালিকানাধীন রেথিয়ন (Raytheon) কোম্পানির সঙ্গে প্রায় ২০ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল চুক্তি স্বাক্ষর করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো উন্নত মাঝারি পাল্লার এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল বা সংক্ষেপে 'আম্রাম' (AMRAAM) ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন ক্ষমতা রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি করা, যা সামগ্রিকভাবে মার্কিন সামরিক শিল্প ভিত্তিকে আরও বেশি শক্তিশালী ও গতিশীল করবে।

 

সোমবার ওয়াশিংটন ডিসি থেকে প্রকাশিত মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের অফিসিয়াল এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। জানানো হয়েছে যে, এই মহা-চুক্তির আওতায় পাঁচ বছরের একটি দীর্ঘমেয়াদী মাল্টিইয়ার চুক্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার সঙ্গে অতিরিক্ত আরও দুই বছর মেয়াদ বাড়ানোর অপশন বা সুযোগ রাখা হয়েছে। পেন্টাগনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পূর্বের উৎপাদনের হারের তুলনায় এই নতুন চুক্তির ফলে আম্রাম ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাবে। মূলত বিশ্বজুড়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে তোলার যে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত প্রয়াস চলছে, এটি তারই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

 

চুক্তি স্বাক্ষরের এই বিশেষ মুহূর্তটি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের অধিগ্রহণ ও রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের অবর সচিব মাইকেল পি. ডাফি (Michael P. Duffey) অত্যন্ত জোরালো ও আশাবাদী মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “প্রতিরক্ষা শিল্পের সমগ্র পরিমণ্ডল জুড়ে আমরা অত্যন্ত নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছি যাতে উৎপাদনের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া যায় এবং স্বাধীনতার অস্ত্রাগার বা ‘আর্সেনাল অব ফ্রিডম’ গড়ে তোলা সম্ভব হয়।” তিনি আরও যোগ করেন, “এই সম্মানজনক পুরস্কার ও চুক্তি আমাদের যৌথ বাহিনী এবং বিশ্বজুড়ে আমাদের বিশ্বস্ত মিত্রদের পরীক্ষিত ও প্রমাণিত আকাশযুদ্ধ সক্ষমতায় সজ্জিত করার ক্ষমতাকে অভাবনীয়ভাবে শক্তিশালী করবে। এর মাধ্যমে আমাদের সম্মুখসারির যোদ্ধারা সর্বদা একটি চূড়ান্ত ও কৌশলগত সুবিধা বজায় রাখতে সক্ষম হবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।”

 

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংকটের প্রেক্ষাপটে উন্নত আকাশযুদ্ধ সরঞ্জামের চাহিদা বিশ্বজুড়ে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বাস্তবতায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তির আম্রাম ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বৃদ্ধির এই উদ্যোগ মার্কিন সামরিক বাহিনীকে বৈশ্বিক আকাশসীমায় নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে এবং যেকোনো সম্ভাব্য আকাশচ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। বিশেষ করে মিত্র দেশগুলোর আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা উন্নত করার ক্ষেত্রে এই বিশাল বিনিয়োগ ও চুক্তি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর