যুক্তরাজ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিমানঘাঁটির কাছাকাছি ঘটে যাওয়া সন্দেহজনক ষড়যন্ত্রের পেছনে কোনো বিদেশি শক্তির সরাসরি হাত রয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও। মার্কিন জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুতর এবং গভীর উদ্বেগের বিষয় হিসেবে অভিহিত করেছেন। আগামী দিনে এই বিদেশি সম্পৃক্ততা ও রহস্যজনক ষড়যন্ত্রের বিষয়ে আরও চাঞ্চল্যকর এবং বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ পেতে পারে বলেও জোরালো ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, গোপনীয়তা রক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিভিন্ন স্বার্থে এই মুহূর্তে সব তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা সম্ভব না হলেও বিগত সপ্তাহে যুক্তরাজ্যে যা ঘটেছে বা যা ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা কোনো বিচ্ছিন্ন বা সাধারণ ঘটনা নয়। এটি একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি এবং এর পেছনে অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে কোনো বিদেশি শক্তির বা দেশের যোগসাজশ রয়েছে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।
গত রবিবার ইংল্যান্ডের গ্লুচেস্টারশায়ারের রয়্যাল এয়ার ফোর্স ফেয়ারফোর্ড নামক সামরিক বিমানঘাঁটির নিকটবর্তী এলাকা থেকে ব্রিটিশ কাউন্টার টেররিজম বা সন্ত্রাসবাদবিরোধী বিশেষ পুলিশের হাতে পাঁচ সন্দেহভাজন যুবক গ্রেপ্তার হওয়ার পর এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য সামনে এল। আটককৃত ব্যক্তিরা সকলেই লন্ডনের স্থায়ী বাসিন্দা এবং তাদের বয়স বিশের কোঠার শুরুর দিকে। স্থানীয় এক সচেতন কৃষকের দ্রুত সতর্কবার্তার ভিত্তিতে পুলিশ তাদের আটক করতে সক্ষম হয়। ওই কৃষক লক্ষ্য করেছিলেন যে, তিনটি সন্দেহজনক সাদা রঙের ভ্যান গাড়ি অত্যন্ত রহস্যজনকভাবে বিমানঘাঁটির প্রবেশপথের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
ব্রিটিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে, ধৃত ব্যক্তিরা কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার উদ্দেশ্যে এই তৎপরতা চালাচ্ছিল কি না, তা তারা অত্যন্ত নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছেন। অবশ্য প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে চলমান তদন্ত কার্যক্রম বজায় রাখার শর্তে ওই পাঁচ সন্দেহভাজনকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, রয়্যাল এয়ার ফোর্স ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিটি মার্কিন সামরিক বাহিনী কৌশলগত কারণে নিয়মিত ব্যবহার করে আসছে এবং অতীতে এই ঘাঁটি থেকে এই অঞ্চলের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত অভিযানে অংশ নেওয়া মার্কিন বোমারু বিমানগুলো পরিচালিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থের বিরুদ্ধে উদ্ভূত সম্ভাব্য হুমকির একটি বৃহত্তর এবং জটিল প্রেক্ষাপটে এই সাম্প্রতিক ঘটনাকে মূল্যায়ন করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ব্রিটিশ কাউন্টার টেররিজম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চমৎকার সহযোগিতা ও পেশাদারিত্বের উচ্চ প্রশংসা করে মার্ক রুবিও বলেন, যুক্তরাজ্যের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যারা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বিষয়টি হ্যান্ডেল করেছেন এবং পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রেখেছেন। গ্রেপ্তার ও পরবর্তীতে জামিনের পুরো প্রক্রিয়ায় মার্কিন কর্মকর্তারা ব্রিটিশ প্রশাসনের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ রেখে কাজ করে চলেছেন।
আলোচনার একপর্যায়ে বিশ্বজুড়ে মার্কিন স্বার্থের ওপর ক্রমবর্ধমান হুমকি এবং আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে সুনির্দিষ্টভাবে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ ইরানের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি সতর্ক করে বলেন, আমরা বর্তমান বিশ্বে এমন কিছু শক্তি ও রাষ্ট্রীয় উপাদানের মুখোমুখি হচ্ছি, যারা প্রকাশ্যে বিশ্বব্যাপী মার্কিন স্বার্থের ওপর আঘাত হানার বা হামলা চালানোর হুমকি দিয়ে আসছে। বিশেষ করে ইরানের পক্ষ থেকে এ ধরনের বৈরী হুমকি নিয়মিত দেওয়া হচ্ছে। মার্ক রুবিও দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন যে, মার্কিন প্রশাসন এ ধরনের যেকোনো নিরাপত্তা হুমকিকে সবসময় সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে থাকে এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি