ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৮২ জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান

আরব বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হলেন মরক্কোর মানসুরি


  • আপলোড সময় : বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৮:৪৯ এএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোর রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সংসদীয় নির্বাচনে অভাবনীয় সাফল্যের পর দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ফাতিমা জাহরা এল মানসুরি। দেশটির রাজপ্রাসাদ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে তার নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থী রাজনৈতিক দল অথেন্টিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি (পিএএম) সবচেয়ে বেশি আসনে জয়লাভ করার পর বাদশাহ ষষ্ঠ মোহাম্মদ তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারপ্রধানের দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। এই ঐতিহাসিক নিয়োগের মাধ্যমে মরক্কোর শাসনব্যবস্থায় নারীর ক্ষমতায়নের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো।

 

৫০ বছর বয়সী ফাতিমা জাহরা এল মানসুরি পেশাগত জীবনে একজন সফল আইনজীবী। এর আগে তিনি দেশটির ঐতিহ্যবাহী মারাকেশ শহরের মেয়র হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো এই শহরটির মেয়র নির্বাচিত হয়ে তিনি ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন এবং তিনি ছিলেন মারাকেশের প্রথম নারী মেয়র। পরবর্তীতে ২০২১ সালের সাধারণ নির্বাচনের পরেও তিনি পুনরায় একই গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হন। এছাড়া জাতীয় ভূখণ্ড পরিকল্পনা, নগর পরিকল্পনা, আবাসন ও নগরনীতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার ঝুলিতে।

 

বিডিসির (সূত্র: বিবিসি) এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, ফাতিমা জাহরা এল মানসুরির এই প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হওয়ার মধ্য দিয়ে আরব বিশ্বের ইতিহাসে তিনি দ্বিতীয় নারী সরকারপ্রধান হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন। এর আগে তিউনিসিয়ার বিশিষ্ট রাজনীতিক নাজলা বুদেন আরব বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন। মরক্কো একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র হওয়া সত্ত্বেও দেশটির শাসনক্ষমতার একটি বড় ও নির্ণায়ক অংশ সরাসরি বাদশাহর হাতে ন্যস্ত রয়েছে। দেশটির সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে যে রাজনৈতিক দল সবচেয়ে বেশি আসন লাভ করবে, সেই দলের মধ্য থেকেই বাদশাহ সরকারপ্রধান মনোনীত করেন।

 

তবে নতুন সরকারের পথচলা যে খুব একটা সহজ হবে না, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে নির্বাচনী হিসাব-নিকাশ থেকেই। ৩৯৫ সদস্যের শক্তিশালী প্রতিনিধি পরিষদে ফাতিমা জাহরা এল মানসুরির দল পিএএম মোট ৯৭টি আসন অর্জন করেছে। কিন্তু সরকার গঠনের জন্য একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের প্রয়োজনীয় আসন সংখ্যা হলো ১৯৮টি, যা বর্তমান ফলাফলের তুলনায় বেশ কম। ফলে সাংবিধানিক নিয়ম মেনে আগামী দিনে সরকার পরিচালনা ও মন্ত্রিসভা গঠনের জন্য দলটিকে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সুনির্দিষ্ট জোটে যেতে হবে। কিন্তু বিদায়ী সরকারের প্রধান অংশীদার ন্যাশনাল র‍্যালি অব ইন্ডিপেন্ডেন্টসের (আরএনআই) সঙ্গে পিএএমের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে, যা জোট গঠনের প্রক্রিয়াকে কিছুটা জটিল ও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

 

অন্যদিকে, ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (পিজেডি) এবারের নির্বাচনে বেশ ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং মোট ৫৪টি আসনে জয়ী হয়েছে, যেখানে তাদের পূর্ববর্তী আসন সংখ্যা ছিল মাত্র ১৩টি। দলটির অভিজ্ঞ নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী আবদেলিলাহ বেনকিরানের নেতৃত্বে পিজেডি তাদের অবস্থান পুনরুদ্ধার করলেও তারা এরই মধ্যে পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা সরকার গঠনে কোনো জোটে অংশ নেবে না এবং বিরোধী দলেই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। ফলে পার্লামেন্টে শক্তিশালী বিরোধী দলের মুখোমুখি হয়ে মানসুরিকে সরকার টিকিয়ে রাখতে হবে।

 

রাজনীতির মাঠে পা রাখার পর থেকেই ফাতিমা জাহরা এল মানসুরি মরক্কোর অন্যতম প্রভাবশালী ও আলোচিত নারী রাজনীতিক হিসেবে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন। ২০০৮ সালে পিএএম দল প্রতিষ্ঠার ঠিক পরপরই তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং দ্রুত দলের শীর্ষ নেতৃত্বে চলে আসেন। শিক্ষাজীবনে তিনি রাবাতের মোহাম্মদ পঞ্চম বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা লাভের পর ইউরোপ ও আমেরিকার খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা ও করপোরেট আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। তার এই সুদীর্ঘ আইনি ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা বর্তমান জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে তিনি পিএএমের নেতৃত্ব জোটের সমন্বয়ক হিসেবে অত্যন্ত সফলভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সূত্র: বিবিসি



এ সম্পর্কিত আরো খবর