আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের কাঠুয়া জেলায় এক নজিরবিহীন ও রক্তক্ষয়ী সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। সংবেদনশীল একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্সের (সিআইএসএফ) অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে নিজ বাহিনীর সদস্যের নির্বিচারে চালানো গুলিতে কোম্পানি কমান্ডার ও সাব-ইন্সপেক্টরসহ মোট চারজন নিরাপত্তা কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সূত্রে এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের বিবরণ সামনে এসেছে, যা পুরো নিরাপত্তা বাহিনীতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে কাঠুয়া জেলার বাসোহলি এলাকার দুর্গম মাশকা গ্রামের সেবা পাওয়ার প্রজেক্টে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। সেবা নদী—যা রাভি নদীর একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা—তার তীরেই অবস্থিত এই জলবিদ্যুৎকেন্দ্রটি। সূত্র জানিয়েছে, ঠিক সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে সিআইএসএফ ইউনিটের অভ্যন্তরীণ দপ্তরে জওয়ানদের মধ্যে কোনো এক বিষয় নিয়ে তীব্র কথা কাটাকাটি শুরু হয়। সেই ক্ষোভ ও উত্তেজনার চরম মুহূর্তে অভিযুক্ত জওয়ান হিংসাত্মক পথ বেছে নেন এবং আকস্মিক এই রক্তক্ষয়ী হামলা চালান।
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন হেড কনস্টেবল অবদেশ কুমার সিং। সিআইএসএফের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত অবদেশ কুমার সিং হঠাৎ করেই অফিস চত্বরে ঢুকে নিজের হাতে থাকা একে-৪৭ রাইফেল দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করেন। ঘটনার সময় তার কাছে প্রায় ১৫০ রাউন্ড গুলি ছিল, যা পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ভয়াবহ করে তোলে। তার আকস্মিক ও নির্বিচার গুলিবর্ষণে ঘটনাস্থলে মারাত্মকভাবে আহত হন বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও জওয়ান।
এই বর্বরোচিত হামলায় গুরুতর আহত চার জওয়ানকে দ্রুত উদ্ধার করে হিমাচল প্রদেশের এনএইচপিসির একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকদের সর্বাত্মক চেষ্টা সত্ত্বেও শেষরক্ষা হয়নি; সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একে একে চারজনই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এই সশস্ত্র সংঘর্ষে নিহতদের মর্মান্তিক পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। সিআইএসএফের এই সদস্যরা হলেন— অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট অঙ্কিত কুমার পাণ্ডে, সাব-ইন্সপেক্টর লক্ষ্মণ সিং, কনস্টেবল রফিক আহমেদ এবং কনস্টেবল সন্দীপ কুমার।
একটি সুরক্ষিত সরকারি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্সের মতো কঠোর শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনীর ভেতরে এমন আত্মঘাতী ও সহিংস ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে ইতিমধ্যে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। বাহিনীর অভ্যন্তরে মানসিক চাপ, পারস্পরিক মতবিরোধ কিংবা শৃঙ্খলাভঙ্গের মতো বিষয়গুলো কীভাবে এমন প্রাণঘাতী রূপ নিল, তা খতিয়ে দেখছেন সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এই মর্মান্তিক ঘটনা গোটা ভারতের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্দরে গভীর উদ্বেগ ও শোকের ছায়া ফেলেছে।