ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৮২ জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান

কো-পাইলট সন্ত্রাসী বা মানসিক বিকারগ্রস্ত ছিলেন: ডোনাল্ড ট্রাম্প


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৯:৫৬ এএম

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি থেকে প্রকাশিত এক চাঞ্চল্যকর আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, দুবাই থেকে তেল আবিবগামী মধ্যপ্রাচ্যের জনপ্রিয় বিমান সংস্থা ‘ফ্লাইদুবাই’ (Flydubai)-এর একটি যাত্রীবাহী ফ্লাইটে ঘটে যাওয়া রহস্যজনক ও রোমহর্ষক ঘটনা নিয়ে সম্প্রতি মুখ খুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার দীর্ঘ ও বিস্তারিত ফোনালাপ হয়েছে এবং এই বিমান কাণ্ডের প্রতিটি মোড় নিয়ে তাদের মধ্যে কথা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, ফ্লাইটের ককপিটে ঘটা এই সহিংসতার পেছনে কো-পাইলটের কোনো সুনির্দিষ্ট সন্ত্রাসী যোগসূত্র থাকতে পারে অথবা তিনি চরম কোনো মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন।

 

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই আকস্মিক ঘটনাটিকে একটি ‘অবিশ্বাস্য ও রোমাঞ্চকর গল্প’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানান, দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া বিমানটিতে হঠাৎ করেই পাইলট ও কো-পাইলটের মধ্যে ভয়াবহ এক সংঘাত ও হাতাহাতি শুরু হয়। এই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে ফ্লাইটটি মাঝ আকাশে একটি হাইজ্যাক কোড বা বিমান ছিনতাইয়ের জরুরি সংকেত সক্রিয় করতে বাধ্য হয়। চরম উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে বিমানটি শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের একটি বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়। ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ‘বিবি নেতানিয়াহু’ তাকে পুরো ঘটনার একটি অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ বিবরণ দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও যোগ করেন, “ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচণায় মনে হচ্ছে, কো-পাইলট হয়তো কোনো সন্ত্রাসী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছিল, কিংবা সে চরম বিকারগ্রস্ত বা কোনো উন্মাদ টাইপের মানুষ ছিল, যে কি না সরাসরি পাইলটকে ছুরিকাঘাত করে বসেছিল।”

 

তবে এই ঘটনার সবচেয়ে নাটকীয় এবং অবিশ্বাস্য অংশ হিসেবে ট্রাম্প তুলে ধরেছেন এক সাধারণ ইসরায়েলি প্লাম্বারের সাহসিকতা ও তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে বিমান রক্ষা পাওয়ার গল্পটি। নেতানিয়াহুর বরাতে ট্রাম্প দাবি করেন, বিমানটিতে ভ্রমণকারী ওই প্লাম্বারের জীবনে কখনো বিমান চালানোর কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছিল না। কিন্তু হঠাৎ করেই ককপিট থেকে তীব্র চিৎকার ও গোলমালের শব্দ শুনে তিনি বুঝতে পারেন যে বিমানের ভেতরে ভয়াবহ কিছু একটা ঘটে গেছে। বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে তিনি যাত্রীদের আসন ছেড়ে এগিয়ে যান এবং ককপিটের পরিস্থিতি আঁচ করতে পারেন। ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য উদ্ধৃত করে বলেন, “জীবনে কখনো বিমান না চালালেও ওই ব্যক্তি অসীম সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে কন্ট্রোল স্টিকটি নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন, সেটি ওপরের দিকে টেনে ধরেন এবং বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ে বিধ্বস্ত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে সেটিকে সফলভাবে সমান্তরাল অবস্থায় ফিরিয়ে আনেন।”

 

এমন অবিশ্বাস্য দক্ষতায় যাত্রীবাহী বিমান নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি কীভাবে সম্ভব হলো, তা নিয়েও নেতানিয়াহুর কাছে কৌতূহল প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। জবাবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী তাকে জানান যে, ওই সাধারণ যাত্রী নাকি নিয়মিত ‘এয়ার ডিজাস্টারস’ (Air Disasters) নামক একটি রোমাঞ্চকর ও জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান দেখতেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওই টিভি অনুষ্ঠানটিকে ‘সবচেয়ে পাগল মার্কা একটি শো’ হিসেবে বর্ণনা করে জানান, নেতানিয়াহু তাকে বলেছেন যে ওই যাত্রী নিয়মিত এই ক্র্যাশ ইনভেস্টিগেশন বা এয়ারক্রাফট সম্পর্কিত অনুষ্ঠানটি দেখতেন এবং সেখান থেকেই বিমান চালনার প্রাথমিক ও জরুরি কৌশলগুলো আত্মস্থ করেছিলেন।

 

অবশ্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে স্বীকার করেছেন যে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পাওয়া এই ঘটনার প্রতিটি খুঁটিনাটি বিবরণ তিনি নিজে স্বাধীনভাবে বা স্বতন্ত্র কোনো সূত্রের মাধ্যমে যাচাই করতে পারেননি। তিনি গণমাধ্যমকে স্পষ্ট করে বলেন, “এখন এগুলোই আমি শুনেছি এবং সেই গল্পটাই আপনাদের বলছি। আমি জানি না এর প্রতিটি তথ্য শতভাগ সত্য কি না, তবে এটিই সেই বিবরণ যা আমি সরাসরি ‘বিবি’র কাছ থেকে পেয়েছি।”

 

এদিকে, ফ্লাইদুবাই কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বিমানের অভ্যন্তরে পাইলটদের মধ্যে ঠিক কী কারণে এই ধরনের ভয়াবহ সংঘাত বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং এর পেছনে প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনো সম্পূর্ণ অজানা রয়েছে। বর্তমানে এই পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এ নিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চলছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আনোডোলু এজেন্সি (Anadolu Agency)-এর সাংবাদিক দিয়ার গোলদোগান (Diyar Güldoğan)-এর পাঠানো প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আকস্মিক বিমান কাণ্ড বিশ্বজুড়ে বেসামরিক বিমান চলাচল ও যাত্রীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নতুন করে প্রশ্ন ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।সূত্র: আনোডোলু এজেন্সি


এ সম্পর্কিত আরো খবর