স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সেউতার অভিবাসী সংকট নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। এই পরিস্থিতিতে স্পেনের সঙ্গে থাকা নিজেদের আকাশ ও জলপথের অস্থায়ী সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরও ১৫ দিনের জন্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইতালি। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই কঠোর নিরাপত্তা পদক্ষেপের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
সুইজারল্যান্ডের জেনেভা থেকে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায়, ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাতেও পিয়ানতেদোসি ইমিগ্রেশন অ্যান্ড বর্ডার সিকিউরিটি অ্যানালাইসিস কমিটির সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। ওই বৈঠকের পর বিমান ও সমুদ্রবন্দরগুলোতে চলমান সীমান্ত তল্লাশি ও কড়াকড়ি আরও ১৫ দিন বহাল রাখার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। ইতালীয় সংবাদ সংস্থা আনসা (ANSA)-র বরাতে জানা গেছে, সেউতা অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি এবং এর আগের উদ্বেগের রেশ ধরেই এই মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে রোম।
ইতালি সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি ইতোমধ্যে ইউরোপীয় কমিশন এবং অন্যান্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য রাষ্ট্রগুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। স্পেনের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত ৩০ ও ৩১ জুলাই মরক্কো সীমান্ত ভেদ করে প্রায় ৭২ হাজার মানুষ অবৈধভাবে স্পেনের ছিটমহল সেউতাতে প্রবেশ করেছিল। এই বিশালসংখ্যক মানুষের অনিয়মিত অনুপ্রবেশের পর থেকেই পুরো অঞ্চলে অভিবাসী চাপ ও নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়, যার রেশ এখনো কাটেনি।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উত্তর আফ্রিকার ওই স্প্যানিশ ছিটমহলের বিভিন্ন রাস্তায় এখনো তিন হাজারের বেশি অভিবাসী মানবেতর জীবনযাপন করছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অপ্রাপ্তবয়স্ক বা শিশু রয়েছে। যদিও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের জন্য অস্থায়ী আবাসন বা আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে, তবুও পরিস্থিতির সম্পূর্ণ উন্নতি হয়নি। তবে আশার কথা হলো, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিদিন প্রায় ২০০ জন অভিবাসী সম্পূর্ণ নিজ ইচ্ছায় মরক্কোতে ফিরে যাচ্ছেন।
আনোডোলু এজেন্সির সাংবাদিক বেয়জা বিন্নুর দনমেজ-এর পাঠানো এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ইউরোপের ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে অভিবাসী নিয়ন্ত্রণ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই ইতালির এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। (সূত্র: আনোডোলু এজেন্সি)