জার্মানিতে দীর্ঘমেয়াদী ও কাঠামোগত অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে যেকোনো মূল્યે ধারাবাহিক সংস্কার কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন দেশটির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ। রাজধানী বার্লিনে শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, দেশের অর্থনীতির গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ধাপে ধাপে জরুরি পরিবর্তনগুলো আনা হবে এবং এ ক্ষেত্রে তার সরকারের দৃঢ়সংকল্পে বিন্দুমাত্র সংশয়ের অবকাশ নেই।
জার্মান সংবাদ সংস্থা ডিপিএ (dpa)-র তথ্যানুযায়ী, বার্লিনে ‘মেড ফর জার্মানি’ (Made for Germany) উদ্যোগের আওতায় আয়োজিত প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বিভিন্ন দিক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। তিনি স্বীকার করেন যে, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত তীব্র এবং সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করলেও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছাতে এখনও কিছু পথ বাকি রয়েছে। শ্রমবাজারের নমনীয়তা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান খাতকে আরও আধুনিক করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে জার্মানির কিছু ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকার ঘাটতি দ্রুত পুষিয়ে নিতে হবে। আগামী সপ্তাহে কোয়ালিশন কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে এবং এর ধারাবাহিকতায় শ্রমবাজার সংক্রান্ত বেশ কিছু নতুন আইন প্রণয়ন করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে অর্থনৈতিক সংস্কারের এই যাত্রায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের একক বাজারের পরিধি আরও প্রসারিত করা এবং দেশে বিতর্কিত পেনশন সংস্কার বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের এজেন্ডায়। তবে এই পেনশন পরিকল্পনা নিয়ে বর্তমান জোট সরকারের ভেতরেই মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মের্জের কনিষ্ঠ শরিক দল সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এসপিডি বা SPD)-র পক্ষ থেকে ৪৫ বছর ধরে অবদানের পর পূর্ণ পেনশন বাতিলের প্রস্তাবটি নিয়ে তীব্র আলোচনার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি শ্রমবাজারকে আরও নমনীয় করার বিষয়টিও অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বেশ বিতর্কিত হয়ে উঠেছে।
বর্তমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিপ্রকৃতি তুলে ধরে চ্যান্সেলর জানান যে, ঋণ-অর্থায়িত বিশেষ তহবিলের মাধ্যমে অবকাঠামো আধুনিকীকরণে কোটি কোটি ইউরো বিনিয়োগের ফলে বিভিন্ন অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এ বছরের পূর্বাভাস কিছুটা উন্নত করেছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, আগামী বছরগুলোর জন্য এখনও কোনো স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্থনৈতিক ঊর্ধ্বমুখী ধারা তৈরি হয়নি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-এর ক্ষেত্রে জার্মানির বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি দেশটির ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের সংগৃহীত তথ্যের আরও কার্যকর ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানান। মের্জের মতে, এই বিশাল ডেটা ভাণ্ডার বা তথ্যের খনিকে যদি এসএমই (SME) খাত সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারে, তবে বিশ্ববাজারে জার্মানি এক অভূতপূর্ব ও অতুলনীয় প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা অর্জন করবে। কারণ বিশ্বের অন্য কোনো দেশে এমন বৈচিত্র্যময় এবং সুবিন্যস্ত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাত নেই।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা আনোডোলু এজেন্সির সাংবাদিক অলিভার তোফিগ নিয়া (Oliver Towfigh Nia)-এর পাঠানো এই প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে যে, দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে মজবুত করতে এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বর্তমান প্রশাসনের সুদূরপ্রসারী সংস্কার নীতি আগামী দিনগুলোতে জার্মানির রাজনীতি ও অর্থনীতিতে অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে। (সূত্র: আনোডোলু এজেন্সি)