বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা মোকাবিলা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে একটি বড় কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে জি-৭ (G-7) ভুক্ত উন্নত দেশগুলো। আগামী চার মাসের মধ্যে জরুরি মজুত বা স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ থেকে মোট ১০ কোটি ব্যারেল ডিজেল ও অপরিশোধিত তেল বিশ্ববাজারে ছাড়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে জোটের নেতারা। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক জরুরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে যৌথভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মতির কথা ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি রপ্তানির ক্ষেত্রে নতুন করে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ বা নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করারও কড়া প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারা।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা বা আইইএ (IEA)-এর তত্ত্বাবধানে চার মাসব্যাপী এই ১০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি সরবরাহের কার্যক্রম অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে শুরু করা হবে। এই উদ্যোগের প্রথম ধাপ হিসেবে প্রাথমিক ২০ দিনের মধ্যেই বাজারে একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জ্বালানি মূল্য সংক্রান্ত উদ্বেগ ও চাপকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জোটটি।
বিবৃতিতে জি-৭ নেতারা আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক বা আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলসহ যেকোনো জ্বালানি পণ্য রপ্তানির ওপর কোনো প্রকার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে না। বাজারে কৃত্রিম অস্থিরতা বৃদ্ধি করতে পারে—এমন যেকোনো ধরনের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণমূলক নীতি থেকে বিরত থাকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন তারা। শুধু তাই নয়, বিশ্বের অন্যান্য তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী দেশগুলোকেও একই ধরনের উন্মুক্ত নীতি অনুসরণ করার জোর আহ্বান জানিয়েছে জি-৭। বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি তারা অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজন সাপেক্ষে যৌথভাবে পরবর্তী যেকোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে তারা প্রস্তুত রয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পূর্বের আলোচনার ধারাবাহিকতায় ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই জরুরি ভিডিও কনফারেন্স বা বৈঠকের আয়োজন করেন। উক্ত উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় ব্রিটেন, জাপান, কানাডা, জার্মানি এবং ইতালিহ জি-৭ জোটের শীর্ষ নেতারা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত ডিজেল রপ্তানি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের এমন অবস্থান ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউর (EU) দেশগুলোর জন্য বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছিল, কারণ এই অঞ্চলটি তাদের জ্বালানি চাহিদার একটি বিশাল অংশের জন্য জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির ওপর সরাসরি নির্ভরশীল। জি-৭ এর এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্ববাজারের বিদ্যমান শঙ্কা কিছুটা হলেও কাটবে বলে আশা করা হচ্ছে।