নেপালের হিমালয় অঞ্চলে এক মর্মান্তিক ও ভয়াবহ তুষারধসের ঘটনায় কমপক্ষে ১৫ জন পর্বতারোহণ কর্মী ও গাইড প্রাণ হারিয়েছেন। দেশটির মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত একটি পর্বতশিবিরে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ উদ্ধারকাজ শেষে হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
নেপাল ন্যাশনাল মাউন্টেইন গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তুল সিং গুরুংয়ের বরাত দিয়ে জানা যায়, গত রোববার ভোরে চীন সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত ৭,১২৬ মিটার (২৩,৩৩৫ ফুট) উচ্চতার সুউচ্চ হিমলুং শিখরের বেস ক্যাম্পে এই তুষারধসের ঘটনা ঘটে। ওই সময় নেপালি কর্মীরা আসন্ন অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সেখানে তাঁবু টানানো এবং প্রয়োজনীয় রশি বাঁধার কাজ করছিলেন।
উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে জানানো হয়, উদ্ধার করা মরদেহগুলো পর্যায়ক্রমে হেলিকপ্টারযোগে কাঠমান্ডুতে নিয়ে আসা হচ্ছে। নিখোঁজ থাকা অপর এক কর্মীকে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ হওয়ায় উদ্ধার অভিযান প্রায় গুটিয়ে আনা হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার সময় বিদেশি পর্বতারোহীরা ওই নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছাননি।
অভিজ্ঞ গাইডসহ ১১ জন উদ্ধারকর্মীর সমন্বয়ে গঠিত একটি দল বেস ক্যাম্পের তাঁবুগুলোকে সম্পূর্ণ ঢেকে ফেলা ৪ মিটারেরও বেশি গভীর বরফের স্তর সরিয়ে এই মরদেহগুলো উদ্ধার করে। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে এভারেস্টে তুষারধসে ১৬ জন এবং ২০১৫ সালে ভূমিকম্পে ১৮ জনের মৃত্যুর পর নেপালের পর্বতারোহণ ইতিহাসে এটি অন্যতম বড় দুর্ঘটনা। বিশ্বের ১৪টি সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গের আটটির অবস্থান নেপালে থাকায় পর্বতারোহণ ও ট্রেকিং পর্যটন দেশটির অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। হিমলুং পর্বতেও সাধারণত উচ্চতম শৃঙ্গে আরোহণের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে দেশি-বিদেশি অভিযাত্রীরা ভিড় করেন।