মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে। একদিকে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় তীব্র বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ ইরানকে এক প্রকার চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পাশাপাশি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ওমান উপকূলে একটি তেলবাহী ট্যাংকারের ওপর হামলার ঘটনা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে সংকট দিন দিন ঘনীভূত হচ্ছে।
শনিবার ইয়েমেনের রাজধানী সানার হুথি নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে মুহুর্মুহু বিমান হামলা পরিচালনা করে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী। দীর্ঘকাল ধরে চলা এই সংঘাতে বিদ্রোহীদের দখলে থাকা রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকায় চলমান এই সামরিক অভিযানে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। হামলার তীব্রতায় নতুন করে অসংখ্য বেসামরিক মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, গত ২৪ ঘণ্টার টানা রক্তক্ষয়ী সংঘাতে হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘর্ষে দেড় হাজারের বেশি মানুষ হতাহত হয়েছেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে এই মানবিক বিপর্যয় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইয়েমেনের যুদ্ধ পরিস্থিতির পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বিরোধ নতুন মোড় নিয়েছে।
এদিকে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার এই ডামাডোলের মধ্যে জলপথেও হামলার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। ওমান উপকূলের কাছাকাছি একটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, শনিবার উপকূলের অতি নিকটবর্তী এলাকায় ওই বাণিজ্যিক জাহাজে এই হামলার ঘটনা ঘটে। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, বিগত মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে মধ্যপ্রাচ্যের এই কৌশলগত জলসীমায় তৃতীয় কোনো জাহাজে হামলার ঘটনা এটি। একের পর এক বাণিজ্যিক জাহাজে এই ধরনের নাশকতামূলক হামলার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণে মনে হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্য এবং এর সংলগ্ন জলপথগুলোতে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে।