মধ্যপ্রাচ্যের
ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আবহ তৈরি করে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর প্রধান স্থাপনাগুলোতে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার
চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র হুতি গোষ্ঠী। ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অব্যাহত বিমান হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া হিসেবে শনিবার এই আক্রমণ চালানো
হয়েছে বলে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে জোরালোভাবে জানানো হয়েছে। কৌশলগত এই তেল স্থাপনায়
হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে গভীর শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে।
হুতি
সূত্রের বরাত দিয়ে আরও জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টার
স্বল্প সময়ের ব্যবধানে রাজধানী সানা এবং ইয়েমেনের অন্যান্য প্রদেশগুলোতে অন্তত ৬০টি তীব্র বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি জোট। এর ফলে দীর্ঘস্থায়ী
এই সামরিক সংঘাতে মোট বিমান হামলার সংখ্যা ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৪২০টিতে
এসে দাঁড়িয়েছে। নির্বিচারে চালানো এই সামরিক আগ্রাসনের
জন্য সম্পূর্ণভাবে রিয়াদ প্রশাসনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে বিদ্রোহীপক্ষ। কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, অবরোধের কঠোর জবাব যথাযথ অবরোধ দিয়েই দেওয়া হবে এবং প্রতিটি সামরিক হামলার দাঁতভাঙা জবাব নিশ্চিত করা হবে।
এদিকে
হুতিদের এই ক্ষেপণাস্ত্র ও
ড্রোন হামলার দাবিকে ডাহা মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক বলে
উড়িয়ে দিয়েছে সৌদি সমর্থিত জোট। ইয়েমেন সরকারের সমর্থনে গঠিত এই সামরিক জোটের
মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সৌদি
গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে
রিয়াদে হামলার দাবিকে সম্পূর্ণ ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, মাঠপর্যায়ে নিজেদের ক্রমবর্ধমান সামরিক ক্ষয়ক্ষতি এবং অভ্যন্তরীণ সাধারণ মানুষের মাঝে বাড়তে থাকা চরম জনঅসন্তোষ থেকে জনগণের দৃষ্টি ভিন্নখাতে সরানোর এটি একটি মনগড়া কৌশল মাত্র। একই সঙ্গে আঞ্চলিক বিশৃঙ্খলা ও ধ্বংস ডেকে
আনা বিভিন্ন বিদেশি শক্তির স্বার্থের সঙ্গে হুতিদের গোপন ও সন্দেহজনক সম্পর্কের
বাস্তব সত্যতা আড়াল করতেই এই ধরনের অসত্য
প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্লেষকদের
মতে, ২০১৫ সালের মার্চ মাস থেকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বৈধ সরকারের সমর্থনে একটি শক্তিশালী সামরিক জোটের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে সৌদি আরব। এর অনেক আগে
থেকেই, অর্থাৎ ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং দেশের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কব্জায় রেখেছে হুতিরা। দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতে নতুন
মাত্রা যোগ হয় যখন চলতি বছরের জুলাই মাসে হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে একতরফা নৌ অবরোধের ঘোষণা
দেয়। তাদের জোরালো দাবি ছিল, ইয়েমেনের হুতি নিয়ন্ত্রিত জনপদগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলা সৌদি নৌ ও বিমান
অবরোধের উপযুক্ত জবাব হিসেবেই তারা এই কঠোর পদক্ষেপ
গ্রহণ করেছে। সেই থেকে ইরান সমর্থিত এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি
সৌদি আরবের অত্যন্ত সংবেদনশীল জ্বালানি অবকাঠামো এবং তেল সম্পদকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে একের পর এক ধ্বংসাত্মক
আক্রমণ পরিচালনা করে আসছে, যা গোটা অঞ্চলের
শান্তি প্রক্রিয়াকে চরমভাবে ব্যাহত করছে।