আবাসন সংকটকে কেন্দ্র করে চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ইউরোপের দেশ স্পেন। মাত্রাতিরিক্ত বাড়িভাড়া বৃদ্ধি, উচ্ছেদের ভয় এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়া আবাসন ব্যয়ের তীব্র প্রতিবাদে রাজধানী মাদ্রিদসহ দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে নেমে এসেছে হাজার হাজার মানুষ। পার্লামেন্টে সরকারের আবাসনসংক্রান্ত ডিক্রিগুলো প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর ক্ষোভের আগুন আরও ছড়িয়ে পড়েছে।
স্পেনে দীর্ঘদিন ধরেই আকাশচুম্বী বাড়িভাড়া ও আবাসন ব্যয় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। বিশেষ করে মাদ্রিদ ও অন্যান্য বড় শহরগুলোতে স্বল্প আয়ের মানুষের পক্ষে মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজে পাওয়া বা মাসিক ভাড়া পরিশোধ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্দোলনকারীদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—সুনির্দিষ্ট ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন, ভাড়াটিয়াদের বেআইনি উচ্ছেদ থেকে পূর্ণ সুরক্ষা প্রদান, দীর্ঘমেয়াদি ভাড়ার চুক্তির নিশ্চয়তা এবং পর্যটনভিত্তিক ও স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ।
পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ ধারণ করে যখন গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) স্পেনের পার্লামেন্টে সরকারের পক্ষ থেকে পেশ করা দুটি গুরুত্বপূর্ণ আবাসনসংক্রান্ত ডিক্রি প্রয়োজনীয় সমর্থন না পেয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়। প্রথম ডিক্রিতে অসচ্ছল ও বিপন্ন ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ থেকে সুরক্ষা, ভাড়া বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ, স্বল্পমেয়াদি ও রুম রেন্টাল নিয়ন্ত্রণ এবং নির্দিষ্ট কিছু আবাসন বিনিয়োগের ওপর আইনি বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাব ছিল। অন্যদিকে দ্বিতীয় ডিক্রিতে বিশেষ পরিস্থিতিতে ভাড়ার চুক্তি নবায়ন ও মেয়াদ বাড়ানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। কিন্তু কংগ্রেসে ডিক্রি দুটি পাস না হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ মানুষ ও অধিকারকর্মীরা।
সংসদে আবাসন ডিক্রিগুলো প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন। মাদ্রিদ ভাড়াটিয়া সংগঠনের মুখপাত্র ভালেরিয়া রাকু গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, সরকারের উদাসীনতার প্রতিবাদে এবার একটি সাধারণ ধর্মঘটের প্রস্তুতি জোরেশোরে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই ধর্মঘট সফল করতে দেশের বড় বড় শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গেও নিবিড় আলোচনা চলছে। যদিও এখনো সাধারণ ধর্মঘটের সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি, তবে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে রাজপথের আন্দোলন যে আরও তীব্র আকার ধারণ করবে, তা নিশ্চিত করেই বলা যায়।