বিদেশের মাটিতে উচ্চশিক্ষার পাট চুকিয়ে ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্নে বিভোর শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর দিয়েছে নিউজিল্যান্ড। আগামী ১৬ নভেম্বর ২০২৬ থেকে দেশটিতে গ্র্যাজুয়েটদের জন্য পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসার সুযোগ আরও প্রসারিত হতে যাচ্ছে। সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ ৪ লেভেল সার্টিফিকেট থেকে শুরু করে ৭ লেভেল গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা পর্যন্ত ২৪টি সুনির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতার একটি তালিকা প্রকাশ করেছে, যা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
প্রকাশিত এই তালিকাটির বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে প্রকৌশল, নির্মাণশিল্প, শিক্ষা, কৃষি এবং বিভিন্ন কারিগরি ও প্রযুক্তিগত খাত। নিউজিল্যান্ড কোয়ালিফিকেশনস অ্যান্ড ক্রেডেনশিয়ালস ফ্রেমওয়ার্কের (এনজিকিউসিএস) আওতায় থাকা এই ২৪টি যোগ্যতার মধ্যে রয়েছে সিভিল বা হাইওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং, কনস্ট্রাকশন ম্যানেজমেন্ট এবং কোয়ান্টিটি সার্ভেয়িংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা। এছাড়া নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে শিক্ষা খাতের গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা সম্পন্নকারীরা প্রাথমিক বা মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষকতার সুযোগ পাবেন। কৃষি ও ডেইরি টেকনোলজি কিংবা অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো কারিগরি কোর্সগুলোও এই সুবিধার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তবে নতুন নিয়মের শর্ত অনুযায়ী, লেভেল সেভেন ডিপ্লোমাধারীদের ক্ষেত্রে কিছু কড়াকড়ি রাখা হয়েছে। এই সুবিধা পেতে হলে শিক্ষার্থীকে নিউজিল্যান্ডে ওই কোর্সের সম্পূর্ণ মেয়াদ পূর্ণকালীন পড়াশোনা করতে হবে। পাশাপাশি তাঁদের আগে থেকেই নিউজিল্যান্ড বা অন্য কোনো দেশ থেকে কোনো ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জিত থাকতে হবে। ক্রেডিট ট্রান্সফার বা পূর্বের পড়াশোনার স্বীকৃতি ব্যবহার করে কোর্সের সময়কাল কমিয়ে ফেললে এই ভিসার জন্য আবেদন করা যাবে না। অন্যদিকে, যারা এই পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসার যোগ্যতার বাইরে থাকবেন, তাদের জন্য চালু হচ্ছে সর্বোচ্চ ছয় মাসের স্বল্পমেয়াদী গ্র্যাজুয়েট ওয়ার্ক ভিসা। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত কিছুদিন সময় পেয়ে স্থানীয় চাকরির বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার সুযোগ পাবেন।
আইডিপি এডুকেশন বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের হেড অব সেলস অ্যান্ড অপারেশন আনোয়ার হোসেনের মতে, নিউজিল্যান্ডের এই নীতিগত পরিবর্তন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এক দারুণ সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে যারা স্বল্প সময়ে পড়াশোনা শেষ করে দ্রুত পেশাগত জীবনে প্রবেশ করতে চান, তাদের জন্য এটি বেশ ফলপ্রসূ হতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, শুধু কম সময়ে ডিগ্রি শেষ করার প্রবণতা না দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের নিজেদের আর্থিক সক্ষমতা, একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার ভাবনার কথা মাথায় রেখেই সঠিক কোর্স বেছে নেওয়া উচিত।
ভিসার মেয়াদ সাধারণত অর্জিত ডিগ্রির ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়। মাস্টার্স বা ডক্টরাল ডিগ্রিধারীরা নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসা পেতে পারেন। কিন্তু নন-ডিগ্রি বা নির্দিষ্ট লেভেল সেভেন ডিপ্লোমার ক্ষেত্রে ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত হতে পারে। তাই নিউজিল্যান্ডে পাড়ি জমানোর আগে শুধু বিশ্ববিদ্যালয় বা কোর্স বাছাইয়ে সীমাবদ্ধ না থেকে, পড়াশোনা শেষে কোন ভিসার উপযোগী হওয়া যাবে এবং কাজের ক্ষেত্রটি কতটা প্রাসঙ্গিক—তা গভীরভাবে যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।