ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬,  ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হাজারো মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় চিরবিদায় নিলেন ফজলুল হক নয়ন বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে ৫ শতাংশ বৃদ্ধি আবরার ফাহাদের খুনিদের আইনজীবী হওয়ায় শিশির মনিরকে নিয়ে প্রশ্ন আগামী দুই মাসের মধ্যে এক হাজার খেলার মাঠ স্থাপনের তাগিদ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া আর নেই বিমানবন্দরে যাত্রীর পায়ুপথে মিলল ১ কোটি ৭৪ লাখ টাকার সোনা রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকের ১১ কর্মকর্তাকে ডিএমডি পদে পদোন্নতি: প্রজ্ঞাপন জারি চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে ১৫ বছরের চুক্তি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা সোমবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৭:৩০ পিএম

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নৃশংস নির্যাতনে নিহত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের পরিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ ও আবেগঘন সাক্ষাৎ করেছেন।


আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই সাক্ষাতের সময় উপস্থিত ছিলেন আবরার ফাহাদের বাবা মো. বরকত উল্লাহ, মা রোকেয়া খাতুন, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং তাদের বিভিন্ন দাবি ও প্রস্তাবনা মনোযোগ সহকারে শোনেন। সাক্ষাতকালে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরও উপস্থিত ছিলেন।


সাক্ষাৎকালে আবরার ফাহাদের বাবা তার সন্তান হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে উচ্চ আদালতে চূড়ান্ত রায় কার্যকরের জোরালো দাবি জানান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং আদালত স্বাধীনভাবেই এর বিচারকার্য সম্পন্ন করবেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পরিবারকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।


এছাড়াও কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামে গড়াই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানান আবরার ফাহাদের বাবা। তিনি উল্লেখ করেন যে, ওই এলাকার প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী অবিলম্বে সেতুটি নির্মাণের আশ্বাস দেন এবং শহীদ আবরার ফাহাদের নামে সেতুটির নামকরণের প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে আবরার ফাহাদের কবর পাকাকরণ এবং পার্শ্ববর্তী মসজিদের অসমাপ্ত নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি।


আলোচনাকালে আবরার ফাহাদের মা রোকেয়া খাতুন আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, কোনো ক্যাম্পুসেই যেন আর কখনো এমন মর্মান্তিক পরিবেশ ফিরে না আসে এবং কোনো মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়। অন্যদিকে ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ প্রধানমন্ত্রীকে বুয়েট ক্যাম্পাস পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান এবং বুয়েটে আবরার ফাহাদের নামে একটি নতুন হল নির্মাণ, পাঠ্যবইয়ে তার মর্মান্তিক ঘটনার অন্তর্ভুক্তি এবং জুলাই আন্দোলনের পাশাপাশি অতীতে নিহতদের একটি তালিকা তৈরির দাবি জানান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান যে, এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি প্রকল্প ইতিমধ্যেই প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


উল্লেখ্য, ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায় হিসেবে গত ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল আবরার ফাহাদকে। ওই ঘটনার পর সারা দেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে এবং পরবর্তীতে বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালত আসামিদের মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন, যা বর্তমানে আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর