শিশু-কিশোর ও তরুণ প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি একটি সুস্থ ও ক্রীড়াবান্ধব সমাজ গঠনের লক্ষ্যে অত্যন্ত যুগান্তকারী এক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ গড়ে তোলার পাশাপাশি আগামী দুই মাসের মধ্যে সারা দেশে কমপক্ষে এক হাজার খেলার মাঠ স্থাপনের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ইউনিয়নভিত্তিক খেলার মাঠ স্থাপন ও ক্রীড়া কার্যক্রম সম্প্রসারণসংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে প্রধানমন্ত্রীর এসব নির্দেশনা ও বিস্তারিত সিদ্ধান্ত সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
বৈঠকে রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের খেলার মাঠ সংকট নিরসনেও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রতি দুই থেকে তিনটি ওয়ার্ডের জন্য অন্তত একটি করে খেলার মাঠ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই নির্দেশনার অংশ হিসেবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ৪০টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৯০টি মাঠ খেলাধুলার উপযোগী করে সেখানে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম চালুর বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে খেলার মাঠ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের ২৭টি জেলায় খেলার মাঠের জন্য ৪০৩টি খাসজমি চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিটি মাঠের আয়তন সর্বনিম্ন তিন থেকে সর্বোচ্চ আট বিঘা নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। মাঠগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা নিশ্চিত করতে প্রতিটি উপজেলায় একজন করে ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস, এই উদ্যোগ দেশের তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার ব্যাপক প্রসার ঘটাতে এবং নতুন প্রজন্মকে সুস্থ ধারায় গড়ে তুলতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।