সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের নিক্ষিপ্ত একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে সফলভাবে ধ্বংস করেছে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী। তবে লক্ষ্যবস্তুতে সরাসরি আঘাত হানার আগেই আকাশেই ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিহত করা হলেও, এর নিচে খসে পড়া ভারী ধ্বংসাবশেষের মারাত্মক আঘাতে রিয়াদের একটি স্বনামধন্য বিদ্যালয় এবং একটি চিকিৎসাকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সৌদির বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতির মাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।
বৃহস্পতিবার দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী থেকে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে জানানো হয়, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে জনবসতিপূর্ণ ও সংবেদনশীল এলাকা লক্ষ্য করে এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি নিক্ষেপ করেছিল। সৌদির অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অত্যন্ত তাৎক্ষণিক ও নিখুঁত পদক্ষেপে রিয়াদের মূল কোনো কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই মাঝআকাশেই সেটি চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেওয়া হয়। তবে ধ্বংসপ্রাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রের ভারী ধাতব অবশিষ্টাংশ বা টুকরোগুলো লোকালয়ে বৃষ্টির মতো আছড়ে পড়ার ফলে বেসামরিক ও জরুরি সেবা প্রদানকারী দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষতি সাধিত হয়েছে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও একটি মেডিকেল ক্লিনিকের ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এই আকস্মিক ধ্বংসাবশেষ পতনের ঘটনায় কোনো প্রাণহানি কিংবা কোনো নাগরিকের হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে ওই বিবৃতিতে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থায় উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিভিন্ন ভূখণ্ড, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্য করে তাদের আগ্রাসী হামলার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। রিয়াদের আকাশে সর্বশেষ এই ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেনি সামরিক জোট একটি জরুরি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল। সেখানে জোরালোভাবে জানানো হয়েছিল যে, সামরিক জোটটি রিয়াদকে লক্ষ্য করে নিক্ষিপ্ত দুটি এবং খামিস মুশাইত শহরের দিকে ধেয়ে আসা আরও একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে আকাশে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। হুথিদের এই ধরনের লাগাতার ও বেপরোয়া মিসাইল আক্রমণ সমগ্র অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে নতুন করে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
এর ঠিক আগের দিন বুধবার সৌদির অত্যন্ত সংবেদনশীল বিমান চলাচল ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ কেন্দ্রগুলোতেও ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছিল। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দক্ষিণাঞ্চলের ব্যস্ততম আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো ওই সুপরিকল্পিত জোড়া হামলায় মর্মান্তিকভাবে তিনজন সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং অন্তত ৩৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরগুলোর মতো আন্তর্জাতিক অঙ্গনের স্পর্শকাতর স্থানে এই ধরনের সন্ত্রাসী হামলা শুধু জানমালের অপূরণীয় ক্ষতিই করেনি, বরং বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচলের নিরাপত্তার প্রশ্নটিকেও তীব্রভাবে উসকে দিয়েছে। হুথিদের এই ধারাবাহিক, ধ্বংসাত্মক ও প্রাণঘাতী হামলার প্রেক্ষাপটে সৌদি সামরিক বাহিনী ও দেশের প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ সর্বাত্মক সতর্কতা জারি করেছে এবং এই ধরনের যেকোনো আকস্মিক হুমকি কঠোর হাতে দমন করতে তাদের প্রতিরক্ষা বলয় আরও বেশি জোরদার করেছে।
সূত্র: আরব নিউজ