যুক্তরাষ্ট্রে
ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকট ও জ্বালানি তেলের
অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-এর সঙ্গে এক
সমঝোতা চুক্তিতে উপনীত হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সমঝোতার আওতায়
বিশ্ববাজারে অবিলম্বে রাশিয়ান ডিজেল সরবরাহের বিশেষ অনুমোদন দিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে মার্কিন সরকারের এই সিদ্ধান্তের কঠোর
বিরোধিতা করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি একে ক্রেমলিনের প্রতি অন্যায্য ‘উপহার’ ও ‘যুদ্ধে বিনিয়োগ’
হিসেবে অভিহিত করেছেন।
নিজের
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক
বার্তায় ট্রাম্প জানান, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিশ্ববাজারে অবিলম্বে ৩ লাখ টন
ডিজেল সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছেন। পরবর্তীতে আগামী নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন
এবং ধাপে ধাপে আরও ১০ লাখ টন
ডিজেল সরবরাহ করা হবে।
ট্রাম্পের
এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরপরই মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ২০২৭ সালের ৭ এপ্রিল পর্যন্ত
রাশিয়ার ডিজেল রফতানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে লাইসেন্স জারি করে। জ্বালানির দাম দ্রুত কমে আসার প্রবল আশাবাদ ব্যক্ত করে ট্রাম্প লিখেছেন, আমেরিকান এবং বিশ্ববাসীর জন্য ডিজেলের দাম রেকর্ড পরিমাণে এবং খুব দ্রুত কমতে যাচ্ছে।’
অন্যদিকে,
রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ক্রেমলিন থেকেও নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে যে, রাশিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ সমগ্র বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য সরবরাহ
করতে প্রস্তুত রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি
তেলের দাম অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় দাম বেড়ে গ্যালনপ্রতি ৬ দশমিক ২৮
ডলারে গিয়ে পৌঁছেছে। সার্বিক বিশ্লেষকদের ধারণা, সামনে অনুষ্ঠিতব্য নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী কংগ্রেসীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজের রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা ধরে রাখা এবং অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই ট্রাম্প এমন বিতর্কিত কিন্তু প্রভাব বিস্তারকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন।
তবে
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের এই সিদ্ধান্তকে পুতিনের
যুদ্ধনীতি ও সামরিক চালচিত্রে
নতুন করে অর্থায়নের সুযোগ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এক ক্ষুব্ধ বিবৃতিতে
তিনি বলেন, ‘পুতিনকে এই ধরনের অর্থনৈতিক
সুযোগ ও উপহার প্রদান
করা হলে তা কখনো শান্তির
পক্ষে কাজ করবে না, বরং রাশিয়া এই অর্থ ব্যবহার
করে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে আরও ভয়াবহ সন্ত্রাস ও আক্রমণ চালাবে।
রাশিয়াকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মতো সংবেদনশীল পণ্য বিক্রির সুযোগ করে দেওয়ার অর্থ হলো এই ধ্বংসাত্মক যুদ্ধকে
দীর্ঘায়িত করার পেছনে নতুন করে বিনিয়োগ করা।
উল্লেখ্য,
ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় সম্প্রতি রাশিয়ার কয়েকটি বড় বড় তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্বয়ং রাশিয়া নিজেও অভ্যন্তরীণ ডিজেল ঘাটতিতে রয়েছে। তা সত্ত্বেও, ট্রাম্পের
এই নতুন নীতি মার্কিন কংগ্রেসে রাশিয়ার ওপর অতিরিক্ত কঠোর নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত পাসের সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ায় এবং ইউরোপীয় মিত্রদের মনে গভীর উদ্বেগের জন্ম দেওয়ায় মার্কিন অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি করেছে।