আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে হত্যা করা ইসরায়েলের জন্য একটি চরম ‘ভুল’ ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রধান ইয়ার গোলান। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, প্রবীণ এই নেতাকে সরিয়ে দেওয়ার পদক্ষেপটি কৌশলগতভাবে ইসরায়েলের জাতীয় স্বার্থের কোনো অনুকূলে আসেনি, বরং এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি আরও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
গতকাল শুক্রবার (৯ অক্টোবর ২০২৬) দেশটির রিশন লেজিয়ন শহরে আয়োজিত এক রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন। আজ শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) তুর্কি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই সংবাদ নিশ্চিত করা হয়েছে।
ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা ইয়ার গোলান তাঁর বিশ্লেষণে জানান, ৮৬ বছর বয়সী আলি খামেনির প্রয়াণের পর তাঁর সুযোগ্য পুত্র মোজতবা খামেনি ইরানের রাষ্ট্রীয় শীর্ষ পদে স্থলাভিষিক্ত হওয়ায় তেহরানের শাসনক্ষমতা ও সামরিক নেতৃত্ব এখন আগের তুলনায় আরও বেশি চরমপন্থী, উগ্র ও কঠোর মনোভাবাপন্ন ব্যক্তিদের হাতে চলে গেছে। ফলে এই গুপ্তহত্যার মাধ্যমে ইসরায়েল নিজের জন্য আরও বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে।
বক্তব্য প্রদানকালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কঠোর সমালোচনা ও আক্রমণ করেন এই বিরোধী নেতা। তিনি অভিযোগ করে বলেন, নেতানিয়াহু কোনো বাস্তবসম্মত সামরিক ও রাজনৈতিক কৌশল ছাড়াই ইরান সরকারকে বলপ্রয়োগে উৎখাত করার একটি সম্পূর্ণ অবাস্তব ও কাল্পনিক স্বপ্ন তাড়া করছেন, যা বাস্তবে অর্জন করা কখনোই সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ব্যাপক সামরিক হামলা শুরু করে। ওই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের জবাবে তেহরানও ইসরায়েল ও মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হাজার হাজার ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালায় এবং বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি পরিবহন পথ কৌশলগত ‘হরমুজ প্রণালি’ নৌ-অবরোধ করে পরিস্থিতি জটিল করে তোলে। পরবর্তীতে দক্ষিণ এশিয়ার বন্ধুপ্রতীম দেশ পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের সরাসরি সমন্বয়ে গত জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি বিশেষ কৌশলগত রূপরেখা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার মাধ্যমে সাময়িকভাবে চরম যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটেছিল।