আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তরুণদের আন্দোলন কেন্দ্র করে রাজধানী নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা গণবিক্ষোভ দমনে নজিরবিহীন পুলিশি অভিযান এবং ধরপাকড়ের ঘটনায় মোদি সরকারের ওপর চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আম আদমি পার্টি (আপ)। সিজেপির যন্তর মন্তরের কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসা আন্দোলনকারী ও শীর্ষ নেতাদের বিমান থেকে এবং রাজপথ থেকে ঢালাওভাবে আটকের ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে কেন্দ্রশাসিত বিজেপি সরকারকে আক্ষরিক অর্থেই কাঠগড়ায় তুলেছে দলটি।
আজ শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) ভারতের অন্যতম শীর্ষ সংবাদমাধ্যম 'দ্য হিন্দু'-র এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়, পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে গিয়ে আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল দিল্লিতে বর্তমানে চরম একনায়কতন্ত্র চলছে বলে তোপ দেগেছেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত অচলাবস্থাকে বিগত শতকের ইন্দিরা গান্ধীর শাসনকালের চেয়েও ভয়াবহ ও 'কালো জরুরি অবস্থা' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক কড়া বার্তায় কেজরিওয়াল মন্তব্য করেন, রানওয়েতে বিমান অবতরণের পরপরই আকাশযান থেকে নেতাকর্মীদের সরাসরি আটক করা বর্তমান সরকারের গভীর ভীতি ও দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ।
অন্যদিকে দিল্লির উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রকে একহাত নেন আপ বিধায়ক গোপাল রাই এবং আপ-এর দিল্লি রাজ্যের সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজ। তাঁরা যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, কেবল একজন বিতর্কিত সরকারি কর্মকর্তাকে রক্ষা করতে গিয়ে গোটা দেশজুড়ে সরকার এক অঘোষিত ‘কালো জরুরি অবস্থা’ চাপিয়ে দিয়েছে। গোটা সেন্ট্রাল দিল্লিকে সুরক্ষিত সেনাশিবিরে রূপান্তর করলেও যুবসমাজের এই স্বতঃস্ফূর্ত ও যৌক্তিক দাবিকে বুলেটের মুখে স্তব্ধ করা যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, নির্বাচনী ভোটার তালিকায় জালিয়াতি ও কারচুপির অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে শনিবারের এই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল যুব রাজনৈতিক সংগঠন সিজেপি।