আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে চলমান জেন-জি ও ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভে সংহতি জানাতে গিয়ে মুম্বাই পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র এবং ‘হাম ভারত কে লগ’ সংগঠনের সভাপতি তুষার গান্ধী। আজ শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) কর্মসূচিতে যাওয়ার পথে মুম্বাইয়ের বান্দ্রা এলাকা থেকে সহযোগীসহ তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’।
আটকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তুষার গান্ধী ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ তোলেন, তাঁকে পুলিশ বেআইনিভাবে গুম করেছে। তবে মুম্বাই পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা গুম করার অভিযোগ খণ্ডন করে জানায়, তুষার গান্ধীকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়নি, বরং আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার নির্দেশে সাময়িকভাবে পুলিশি হেফাজতে ডি এন নগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া সংগঠনের সহ-সভাপতি গুড্ডি এস এল-কেও মুম্বাইয়ের আন্ধেরি এলাকা থেকে আটক করে এমআইডিসি থানায় রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে তরুণদের অহিংস আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে আজ বিকেলে মুম্বাইবাসীকে ১৯৪২ সালের ঐতিহাসিক ‘ভারত ছাড়ো আন্দোলন’-এর স্মৃতিবিজড়িত অগাস্ট ক্রান্তি ময়দানে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন তুষার গান্ধী। কিন্তু স্থানীয় গামদেবী থানার পুলিশ এই বিক্ষোভের কোনো লিখিত অনুমতি দেয়নি। পুলিশের দাবি, ওই সংরক্ষিত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে যে কোনো জনসমাবেশে সুপ্রিম কোর্টের সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
সংগঠনটির সহ-সভাপতি গুড্ডি অভিযোগ করেন, ইমেইলের মাধ্যমে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতির আবেদন করা হলেও কোনো সদুত্তর দেয়নি প্রশাসন। বরং কয়েক দিন আগে থেকেই তুষার গান্ধীকে এই ছাত্র আন্দোলনে যোগ না দেওয়ার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে পরোক্ষ চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল।
দিল্লির যন্তর মন্তরের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি সফল করা ঠেকাইতে কেবল মহারাষ্ট্র জুড়েই নয়, পুরো ভারতজুড়ে নজিরবিহীন পুলিশি অভিযান চালানো হচ্ছে। এরই মধ্যে মুম্বাই শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অন্তত দুই শতাধিক আন্দোলনকারী ও মানবাধিকার কর্মীকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।