আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিজুড়ে চলা যুব আন্দোলন ও বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা গণবিক্ষোভ কেন্দ্র করে রাজধানীতে চলমান নজিরবিহীন পুলিশি সাঁড়াশি অভিযানের মুখে এবার আটক হয়েছেন কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রবীণ বামপন্থী শীর্ষ নেতা পিনারাই বিজয়ন।
আজ শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) সকালে দিল্লির ঐতিহ্যবাহী যন্তর মন্তর রোডে অবস্থিত ‘কেরালা হাউস’-এর সামনে থেকে তাঁকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয় বলে ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষ সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, আটকের পর পিনারাই বিজয়নকে বর্তমানে দিল্লির ছত্রশাল স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সের ভেতরে স্থাপিত সাময়িক বন্দিশিবিরে রাখা হয়েছে।
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আমূল ভোটার তালিকা সংশোধনে জালিয়াতির অভিযোগে সিজেপির এই গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে পুরো দিল্লিতে আজ সকাল থেকেই চলছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভূতপূর্ব কড়াকড়ি ও ক্র্যাকডাউন। বিক্ষোভ শুরুর আগেই একে একে আটক করা হয়েছে আন্দোলনের প্রায় সমস্ত শীর্ষ নেতৃত্বকে।
এরই মধ্যে মুম্বাই থেকে বিমানে চেপে দিল্লিতে পৌঁছানো মাত্রই রানওয়েতে উড়োজাহাজে উঠে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, শীর্ষ নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা-কে আটক করে পুলিশ। অন্যদিকে, জার্মানি থেকে বিশেষ কর্মসূচিতে যোগ দিতে ভারতে আসা বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় ৩২ বছর বয়সী ভারতীয় ইউটিউবার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ধ্রুব রাঠি-কেও শনিবার সকালে গুরগাঁওয়ের সেক্টর ৫৬ এলাকার নিজ বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ধ্রুব রাঠীকে আটক করতে দিল্লি পুলিশের প্রায় ৫০ সদস্যের বিশাল একটি দল তাঁর বাড়িতে অভিযান চালায়।
এছাড়া সিজেপির আইনি শাখার প্রধান অ্যাডভোকেট রত্না সিংকেও বিক্ষোভের আগের রাতে নিজ বাসভবন থেকে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আটকের আগমুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে রত্না সিং প্রশাসনের এই দমনপীড়নের তীব্র প্রতিবাদ জানান।
সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ডাকা সমাবেশ পণ্ড করতে পুরো সেন্ট্রাল দিল্লিকে অবরুদ্ধ করার পাশাপাশি রাজপথ ও আকাশপথ থেকে ধরপাকড় চালানো নিয়ে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। তবে আটককৃতদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কী কী আইনি ধারায় মামলা দায়ের বা অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক স্পষ্টীকরণ দেওয়া হয়নি।