আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের চালানো রক্তক্ষয়ী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ ১২ জনের মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সৌদির ভূখণ্ডে এটিই সবচেয়ে বড় ও প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বর্বরোচিত এই হামলায় কমপক্ষে ১২ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক, দুজন বাংলাদেশের এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত হুথিদের এই আগ্রাসন এমন এক সময়ে ঘটল, যখন দেশটিতে সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। ইয়েমেন সরকারের স্থল অভিযানকে সহায়তা করতে বর্তমানে হুথিদের বিভিন্ন অবস্থানে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে সৌদি জোট।
এই
ভয়াবহ হামলার পর তাৎক্ষণিকভাবে আন্তর্জাতিক
অঙ্গন থেকে তীব্র নিন্দা
ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। বিশ্বনেতাদের
প্রতিক্রিয়া নিচে তুলে ধরা
হলো:
যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলাকে অত্যন্ত ‘ভয়াবহ’ হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছেন, তিনি শিগগিরই সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফোনে কথা বলবেন। হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্র জড়াবে কি না, সে বিষয়েও ওয়াশিংটন বিবেচনা করছে বলে জানান তিনি। এছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও হামলায় এক মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে এ ধরনের জঘন্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানান।
জাতিসংঘ: ইয়েমেনে নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ বর্তমান পরিস্থিতিকে সামগ্রিক নিরাপত্তার ‘মারাত্মক অবনতি’ বলে মন্তব্য করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, বেসামরিক বিমান বন্দরে এমন প্রাণঘাতী হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি এবং এটি চলমান ইয়েমেন শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলবে।
মিসর ও কাতার: মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে আন্তর্জাতিক আইনের ‘নগ্ন লঙ্ঘন’ ও বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তার প্রতি চরম অবহেলা বলে উল্লেখ করেছে এবং হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। অন্যদিকে কাতার একে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর ‘গুরুতর আঘাত’ আখ্যা দিয়ে রিয়াদের নেওয়া যেকোনো বৈধ পদক্ষেপের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করেছে।
ফিলিস্তিন
ও জাপান: ফিলিস্তিন সরকার যেকোনো সংকটময় সময়ে সৌদির সার্বভৌমত্ব
রক্ষায় পাশে থাকার দৃঢ়
ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া সৌদি আরবে অবস্থিত
জাপানি দূতাবাসও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এ ধরনের
বারবার হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তীব্র
নিন্দা জানিয়েছে।