সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের চালানো রক্তক্ষয়ী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারানো ১২ জনের জাতীয়তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। মর্মস্পর্শী এই আন্তর্জাতিক ট্র্যাজেডিতে দুই জন প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক ছাড়াও বিশ্বের আরও ৭টি দেশের ১০ জন নাগরিক নিহত হয়েছেন।
আজ রোববার (১১ অক্টোবর ২০২৬) সকালে সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (জিএসিএ) এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিহতের সঠিক তালিকা ও আহতদের সর্বশেষ তথ্য প্রকাশ করে।
জিএসিএ-এর বিবৃতি অনুযায়ী, কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গতকাল শনিবারের এই ভয়াবহ হামলায় নিহত ১২ জনের মধ্যে চারজন আয়োজক দেশ সৌদি আরবের স্থানীয় নাগরিক। নিহত অবশিষ্ট ৮ জন বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি এবং যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, জর্ডান, সিরিয়া, ফিলিস্তিন ও সুদানের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। প্রাণহানির পাশাপাশি এই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় বিমানবন্দর ভবনের ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে, যা বর্তমানে নিরূপণ করা হচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, হামলার ঘটনায় মোট ৩০৯ জন আহত হয়েছেন, যাদের তড়িঘড়ি উদ্ধার করে রিয়াদের বিভিন্ন সামরিক ও বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ট্র্যাজেডিতে প্রাণ হারানো সবার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনায় সব ধরনের উন্নত চিকিৎসার আশ্বাস দিয়েছে।
ইতিমধ্যে হামলার স্থান পরিদর্শনের পর উদ্ধার তৎপরতা ও সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মর্মান্তিক এই হামলায় নিহত প্রবাসী দুই বাংলাদেশির নাম-পরিচয় দ্রুত শনাক্ত করে লাশ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়ায় কাজ করছে রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।