সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের চালানো রক্তক্ষয়ী ও নজিরবিহীন হামলায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সৌদি আরবে যা ঘটেছে তা কোনোভাবেই 'গ্রহণযোগ্য নয়' আখ্যা দিয়ে হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি জোটের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যোগ দেবে কি না—তা ওয়াশিংটন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন সরকারের এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি জানান, রিয়াদ বিমানবন্দরে এই নারকীয় হামলার ঘটনায় তিনি শীঘ্রই সৌদি আরবের ডি ফ্যাক্টো নেতা ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফোনে কথা বলবেন। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে মার্কিন সেনা ও সরাসরি যুক্ত হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, "আমরা বিষয়টি খুব গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি এবং ওয়াশিংটন খুব দ্রুত এ বিষয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেবে।"
সৌদি সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, রিয়াদের ব্যস্ততম বিমানবন্দরে হুথিদের চালানো এই প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ২ জন প্রবাসী বাংলাদেশিসহ অন্তত ১২ জন নিরীহ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৩০৯ জন। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি ইতিমধ্যেই এই রক্তক্ষয়ী হামলার দায় স্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ইয়েমেনের বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে সৌদি বিমান হামলার জবাবেই তারা রিয়াদ বিমানবন্দরকে নিশানা বানিয়েছে।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় জানান, রিয়াদ বিমানবন্দরে এক মার্কিন নাগরিকও প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি একে ‘নিরপরাধ মানুষের জীবনের প্রতি চরম অবজ্ঞা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এ ধরনের বর্বরোচিত হামলা অবিলম্বে বন্ধের জোর দাবি জানান। অপরদিকে ইয়েমেনবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছেন, বেসামরিক বিমানবন্দরে এই হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করেছে এবং এটি ইয়েমেনে চলমান শান্তি প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ভণ্ডুল করে দেবে। বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও নিরাপত্তার তাগিদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সকল ফ্লাইট কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।