আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও কথিত ভোট চুরির অভিযোগে আন্দোলন গড়ে তোলা ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ (সিজেপি) তিন শীর্ষ নেতা দিল্লি পুলিশ কর্তৃক মুক্তি পাওয়ার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। কারাগার ও আদালতের আইনি প্রক্রিয়া শেষে ছাড়া পেয়েই সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে দেশের ইতিহাসের "সবচেয়ে বড় কাপুরুষ ও নির্যাতনকারী" বলে আখ্যায়িত করেছেন।
রোববার (১১ অক্টোবর ২০২৬) সকালে দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট থানার অধীনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করার পর বিশেষ শর্তে মুক্তি দেওয়া হয় অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে। আদালত থেকে বের হয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় দীপকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করে লেখেন, “প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদি ভারতের জন্য পরম লজ্জার কারণ। এই দেশ এর চেয়ে বড় কোনো কাপুরুষ ও নিগ্রহকারী শাসককে এর আগে কখনো দেখেনি।”
এর আগে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় ১৩ কোটি ৩০ লাখ ভোটারের নাম রহস্যজনকভাবে বাদ পড়ার অভিযোগে মধ্য দিল্লির যন্তর মন্তরে গণবিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয় সিজেপি। সেই কর্মসূচির পরপরই দিল্লি পুলিশ প্রতিরোধমূলক আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় দীপকেসহ দলের তিন শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তার করে হেফাজতে নেয়। সিজেপির লিগ্যাল টিমের প্রধান রত্না সিংহ নিশ্চিত করেছেন, আগামী এক বছরের জন্য কোথাও ‘শান্তি ভঙ্গ’ বা আইনশৃঙ্খলার ব্যাঘাত না ঘটানোর শর্তে এবং বন্ড জামানত হিসেবে জমা রেখে আদালত তাঁদের মুক্তির আদেশ দিয়েছেন।
নেতাদের মুক্তির পর সিজেপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গর্জে উঠে বলা হয়, “ককরোচরা কখনো মরে না! আন্দোলনের প্রবল চাপের মুখেই অবশেষে দীপকে, সৌরভ ও রাঙ্কাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছে দিল্লি পুলিশ।” টাইমস অব ইন্ডিয়াসহ একাধিক সর্বভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ইভিএম ব্যবস্থার স্বচ্ছতা না ফেরা পর্যন্ত সিজেপির তরফ থেকে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীপকের এই প্রত্যক্ষ আক্রমণ ভারতের চলমান ভোটাধিকার আন্দোলনের পারদকে আরও উসকে দিল।