আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ করার পরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনার শিকার নারী কয়েদি ক্রিস্টিয়া পাইককে দীর্ঘ দুই সপ্তাহ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা শেষে পুনরায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই বিরল ও অয়কর ঘটনার পর মার্কিন বিচারব্যবস্থায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি এবং এর কার্যকারিতা নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও নৈতিক প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
গত শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) ক্রিস্টিয়া পাইকের এক আইনজীবী গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়া পাইককে টেনেসির দেবোরাহ কে জনসন রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যেখানে তিনি গত প্রায় তিন দশক ধরে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। বর্তমানে তাঁকে কারাগারের নিজস্ব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে মার্কিন অঙ্গরাজ্য টেনেসিতে ক্রিস্টিয়া পাইক নামের এই নারী খুনির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, তাঁর শরীরে বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ করা হয়। সাধারণত এই ইনজেকশন দেওয়ার সাথে সাথে বন্দি অজ্ঞান হয়ে যান এবং বড়জোর ২০ মিনিটের মধ্যে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার কথা। কিন্তু ওই রাতে দুটি বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ করার পরও ক্রিস্টিয়ার মৃত্যু হয়নি। উল্টো তিনি যন্ত্রণায় বড় বড় নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করেন এবং গোঙানোর ভয়ংকর শব্দ করতে থাকেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কারা কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে তাঁকে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসকদের দীর্ঘ দুই সপ্তাহের অক্লান্ত চেষ্টায় সবাইকে অবাক করে দিয়ে তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সালে নিজের সহপাঠী কোলিন স্লিমারকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে ক্রিস্টিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর। সে সময় থেকেই তিনি কারাগারে বন্দি রয়েছেন। এদিকে বিষাক্ত ইনজেকশন কাজ না করার এই অস্বাভাবিক ঘটনার পর টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ফায়ারিং স্কোয়াডে গুলি করে কিংবা ইলেকট্রিক চেয়ারে বসিয়ে তাঁর সাজা পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। যদিও বর্তমানে টেনেসির গভর্নর চলতি বছরের জন্য সমস্ত ধরনের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত রেখেছেন, ফলে ক্রিস্টিয়ার দণ্ড পুনরায় কবে এবং কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি।