ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬,  ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বড় অভিযোগ বেগমগঞ্জে ব্যবসায়ীকে দোকান থেকে ডেকে নিয়ে প্রকাশ্যে গুলি ১০ লাখ টাকার চুক্তি ও ফাঁদে পরীক্ষার্থীরা ভারতীয় বিমানের জন্য আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়াল পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলের মাঠে ঢুকে পড়ল চালকহীন ট্রাক: শিশুসহ ২ জনের মৃত্যু কানাডার গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, হতাহতের আশঙ্কা রিয়ালের ৫৮ বছরের রেকর্ডে ভাগ বসাল হান্সি ফ্লিকের বার্সেলোনা বিক্ষোভে উত্তাল প্যারিস: আটটি বাংলাদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে সংঘবদ্ধ লুটপাট ফ্রান্সজুড়ে ভয়াবহ সহিংসতা, গ্রেপ্তার ১২০০, আহত ১৫০ পুলিশ সদস্য ভারতের মধ্যপ্রদেশে ট্রাকচাপায় মন্দিরে যাওয়ার পথে ১২ পুণ্যার্থী নিহত

সার্ক পুনরুজ্জীবিত করতে নেপালের সহযোগিতা চাইলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৮:২৯ পিএম

দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে (সার্ক) পুনরায় পূর্ণাঙ্গভাবে সক্রিয় ও পুনরুজ্জীবিত করতে নেপালের সরাসরি সহযোগিতা ও যৌথ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কামনা করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। একইসঙ্গে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক চুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্য সম্ভাবনা বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা এবং সার্বিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রীর নিজস্ব কার্যালয়ে নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ বোরহান উদ্দীন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


সাক্ষাৎকালে উভয় দেশের প্রতিনিধি দ্বিপক্ষীয় ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা স্পর্শকাতর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং ভবিষ্যতে উন্নয়নমূলক সকল ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধির জোরালো অঙ্গীকার প্রকাশ করেন। নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী বৈঠকে উল্লেখ করেন যে, ভৌগোলিক অবস্থান ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বাংলাদেশ ও নেপালের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অনেক মিল রয়েছে। ফলে উভয় দেশের সার্বিক পরিস্থিতি প্রায় একই রকম। দুই দেশের শিক্ষাখাতে অপার সহযোগিতার কথা স্মরণ করে তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে আড়াই হাজারেরও বেশি নেপালী শিক্ষার্থী উচ্চতর চিকিৎসাবিদ্যায় পড়াশোনা করছেন এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার এই ক্ষেত্রে সহযোগিতার সুযোগ আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব।


বৈঠকে রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী নেপালে সম্প্রতি সংঘটিত ভয়াবহ বন্যার চিত্র তুলে ধরে জানান, বন্যাদুর্গত চরম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পুনর্নির্মাণ ও পুনর্বাসনের জন্য আনুমানিক প্রায় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ প্রয়োজন। এই বিশাল সংকটময় প্রেক্ষাপটে তিনি বাংলাদেশের সার্বিক প্রযুক্তিগত ও মানবিক সহযোগিতার উদাত্ত আহ্বান জানান। নেপালের রাষ্ট্রদূতের এই মানবিক প্রস্তাবের জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেন, নেপাল বাংলাদেশের এক চির বিশ্বস্ত ও বহু পরীক্ষিত বন্ধু রাষ্ট্র। বাংলাদেশ সবসময় নেপালের যেকোনো বিপদে পাশে ছিল এবং নেপালের এই সংকটময় মুহূর্তেও সম্ভাব্য সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।


আঞ্চলিক সহযোগিতার অপরিহার্য গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান সার্ককে দ্রুত পুনরুজ্জীবিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি যুক্তি দেন যে, আন্তর্জাতিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ফোরামে বাণিজ্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংকটময় বিষয়ে আঞ্চলিক দেশগুলো আলাদাভাবে কথা না বলে যদি সম্মিলিতভাবে একক আওয়াজ তোলে, তবে আরও কার্যকরভাবে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে। একই সাথে দুই দেশের বাণিজ্য সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, আঞ্চলিক বাণিজ্য বৃদ্ধি পেলে পরিবহন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং পণ্যের সঠিক মূল্য নিশ্চিত হবে, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও জীবনযাত্রার মান উন্নত করবে। একই সঙ্গে বাণিজ্যে আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে কাজ করলে দেশীয় শিল্প সুরক্ষা পাবে। পরিশেষে উভয় পক্ষ দুই বন্ধুপ্রতীম দেশের সম্পর্ককে ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় করার দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর