যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক পূর্ব মুহূর্তেই ইরানে বড় ধরনের নতুন সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে জোরালো চাপ সৃষ্টি করলেও, এই মুহূর্তে ইরানে হামলা চালানো সামরিক বা রাজনৈতিক কৌশলগতভাবে ‘সুবিধাজনক নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত দখলদার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। বুধবার (১৪ অক্টোবর) ইসরায়েলের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম চ্যানেল-১২-এর এক বিশেষ খবরের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায় যে, আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে জাতীয় পার্লামেন্ট নেসেটের ভাগ্য নির্ধারণী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। অন্যদিকে, আগামী ৪ নভেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত মধ্যবর্তী নির্বাচন। দুটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন সামনে রেখে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু পূর্বে ট্রাম্পকে ইরানে হামলা চালাতে উৎসাহিত করলেও, বর্তমানে তাঁর সামরিক কৌশলগত ভাবনায় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বুধবার স্থানীয় ইসরায়েলি আর্মি রেডিওতে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন যে, অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই সময়ে ইরানে নতুন করে আক্রমণ করার কোনো তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা তাদের নেই। তবে সামরিক প্রেক্ষাপটে ঠিক কোন কারণে এখন আক্রমণ চালানো যুক্তিযুক্ত নয়, সে ব্যাপারে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করেননি।
একই রেডিও সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মেরুকরণ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পদ নিয়ে নিজের অবস্থানের কথা তুলে ধরেন নেতানিয়াহু। তিনি নিশ্চিত করেন যে, আসন্ন নির্বাচনে যদি তাঁর রাজনৈতিক দল 'লিকুদ পার্টি' একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা জোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে, তবে চরম উগ্রপন্থী হিসেবে পরিচিত বর্তমান জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গিভিরকে কোনো অবস্থাতেই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মতো স্পর্শকাতর পদে বসানো হবে না। সম্প্রতি বেন গিভির শর্ত দিয়েছিলেন যে, লিকুদ পার্টির সঙ্গে পুনরায় জোটবদ্ধ হয়ে সরকার গঠনে সহায়তা করলে তাঁকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দিতে হবে। বেন গিভিরের এই আবদার সরাসরি নাকচ করে নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি লিকুদ পার্টির অভ্যন্তরীণ ব্যক্তিদের হাতেই সংরক্ষিত থাকবে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যেকোনো মুহূর্তে যৌথ বা এককভাবে ইরানি ভূখণ্ডে সামরিক হামলা চালাতে পারে—এমন গভীর আশঙ্কাকে বিবেচনায় রেখে তেহরানও তাদের সর্বোচ্চ সামরিক প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা ও প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, তেহরান সরকার ও তাদের সশস্ত্র বাহিনী যদি নিশ্চিত সংকেত বা তথ্য পায় যে ওয়াশিংটন কিংবা তেল আবিব তাদের ওপর সরাসরি কোনো আক্রমণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে, তবে রক্ষণাত্মক না থেকে ইরান নিজে থেকেই প্রতিপক্ষের সেনা ও সামরিক ঘাঁটিতে আগাম ও কঠোর হামলা চালিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। নির্বাচন কেন্দ্রিক এই রাজনৈতিক উত্তেজনায় মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ আবারও এক চরম অনিশ্চয়তা ও যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে।
সংবাদ সূত্র: আলজাজিরা (Al Jazeera)