পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগকারী বিশ্ব অর্থনীতির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক ও সাধারণ জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। সম্প্রতি এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে একাধিক তেলবাহী ট্যাংকারে রহস্যজনক হামলা ও বিস্ফোরণের ঘটনার পরপরই ইরানের পক্ষ থেকে এমন কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানানো হলো। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) আইআরজিসির নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, পরবর্তী সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে কোনো দেশেরই জাহাজ চলাচল করতে পারবে না। তাদের এই আইনি নির্দেশ অমান্য করে যদি কোনো জলযান প্রণালি অতিক্রম করার দুঃসাহস দেখায়, তবে তাকে চরম ও কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, কোনো জাহাজ যদি মার্কিন নৌবাহিনীর নিরাপত্তা কিংবা সমর্থনের ওপর ভর করে এই সংবেদনশীল নৌপথ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে সেটিকে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে বলেও আইআরজিসি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি এই হরমুজ প্রণালিতে পানির নিচে থাকা বিশেষ মাইনের আঘাতে একটি বিশালাকার আন্তর্জাতিক তেলবাহী ট্যাংকারে হঠাৎ আগুন ধরে যাওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসে। তার ঠিক পরদিনই সৌদি আরবের সমুদ্রসীমার কাছাকাছি কৌশলগত এলাকায় আরও অন্তত দুটি আন্তর্জাতিক তেলবাহী ট্যাংকারে একই ধরনের হামলা ও প্রাণঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
পরপর এসব ভয়াবহ হামলা ও বিস্ফোরণের ঘটনায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বজুড়ে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। এই চরম উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে খ্যাত হরমুজ প্রণালি অচল করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিল তেহরান। বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন পরিবাহিত বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল এই একটিমাত্র সরু প্রণালি দিয়েই বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হয়। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল স্থগিত থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে চরম অস্থিরতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিষেশজ্ঞরা। সূত্র: আল-জাজিরা, ইরনা