লালমনিরহাটের
পাটগ্রাম উপজেলার সীমান্তবর্তী বুড়িমারী বামনদল এলাকা দিয়ে শিশু ও নারীসহ মোট
১৪ জন নাগরিককে জোরপূর্বক
বাংলাদেশে পুশ-ইন করার একটি
অনৈতিক চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার
গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) জওয়ানদের কঠোর নজরদারি ও তাৎক্ষণিক সাহসিকতার
ফলে বিএসএফের সেই অপচেষ্টা সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে।
বিজিবি
ও স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, শনিবার দিবাগত গভীর রাতে অর্থাৎ আনুমানিক রাত ৩টার দিকে পাটগ্রামের বুড়িমারী বামনদল সীমান্তের ৮৩৮/১ নম্বর মেইন
পিলার সংলগ্ন শূন্যরেখা দিয়ে এই অনুপ্রবেশের চেষ্টা
চালানো হয়। রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে বিএসএফ সদস্যরা ২ জন শিশু,
২ জন নারী এবং
১০ জন পুরুষসহ মোট
১৪ জন ব্যক্তিকে একযোগে
বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। বিষয়টি টের পাওয়ামাত্রই ওই সীমান্ত এলাকায়
দায়িত্বরত বিজিবির বিশেষ টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে
ছুটে যায় এবং অত্যন্ত শক্ত অবস্থান নিয়ে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে কঠোর বাধা প্রদান করে। বিজিবির এই দৃঢ় ও
তাৎক্ষণিক প্রতিরোধের মুখে শেষ পর্যন্ত বিএসএফ তাদের হীন উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়।
স্থানীয়
বাসিন্দারা নিশ্চিত করেছেন যে, বিজিবির কড়া বাধায় বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পেরে ওই
১৪ জন ব্যক্তি বর্তমানে
সীমান্ত পিলার ও জিরো লাইন
থেকে আনুমানিক ১০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে
অবস্থান করছেন। সীমান্তে পুনরায় যেন এ ধরনের কোনো
অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশ-ইনের
ঘটনা ঘটতে না পারে, সে
বিষয়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পুরো সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল কার্যক্রম ও গোয়েন্দা নজরদারি
বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার
সত্যতা সম্পূর্ণ নিশ্চিত করে ৬১ বিজিবি তিস্তা
ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাহিনুল ইসলাম শাহীন গণমাধ্যমকে জানান, সীমান্ত দিয়ে ১৪ জন নাগরিককে
বাংলাদেশে পুশ-ইনের একটি সংঘবদ্ধ অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল, যা আমাদের সতর্ক
ও তৎপর টহল দলের সময়োপযোগী বাধায় পুরোপুরি ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার
কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে বিএসএফের কাছে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে। খুব শীঘ্রই পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি সৌহার্দ্যপূর্ণ অথচ কঠোর কূটনৈতিক উপায়ে সমাধানের জোর চেষ্টা চলছে। দেশের সীমান্ত সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখতে বিজিবির সার্বক্ষণিক কড়া নজরদারি ও অপারেশনাল কার্যক্রম
অব্যাহত রয়েছে।