ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬,  ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাঘারপাড়ায় সার ডিলার নিয়োগ ও কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ


  • আপলোড সময় : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৫:৪৩ পিএম

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় চরম পক্ষপাতিত্ব, স্বজনপ্রীতি ও জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নীতিমালা তোয়াক্কা না করে অযোগ্য ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিবাদে এবং ঘোষিত নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলপূর্বক পুনরায় স্বচ্ছভাবে তালিকা চূড়ান্ত করার দাবিতে গত ১১ অক্টোবর (রবিবার) যশোর জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাঘারপাড়া উপজেলা ও পৌর বিএনপি। 

 

 প্রাপ্ত তথ্য ও স্মারকলিপির বিবরণী সূত্রে জানা যায়, গত ১১ অক্টোবর রবিবার সকালে বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি তানিয়া রহমান সুমির হস্তাক্ষরিত একটি স্মারকলিপির অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেয় বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল। এর পাশাপাশি স্মারকলিপির অনুলিপি কৃষিমন্ত্রী এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরেও অবহিতকরণের জন্য পাঠানো হয়েছে।

 

স্মারকলিপিতে সুস্পষ্টভাবে অভিযোগ করা হয়, উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় একজন করে সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা লঙ্ঘন করে চরম পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে। স্থানীয় তৃণমূল বিএনপিকে সম্পূর্ণ পাশ কাটিয়ে বিগত সরকারের সুবিধাভোগী, অসাধু ব্যবসায়ী এবং একাধিক ফৌজদারি মামলার আসামিদের ডিলার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একটি শক্তিশালী স্বার্থান্বেষী মহলের তদ্বির ও বিপুল অর্থ লেনদেনের বিনিময়ে এসব অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে বলে ডিলারশিপবঞ্চিত ও স্থানীয় বিএনপির দায়িত্বশীলদের অভিযোগ।   এ দিকে বাঘারপাড়া উপজেলা কৃষি অফিসার সৈয়দা নাসরিনের ভূমিকা নিয়েও নানামুখী প্রশ্ন ও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।

 

অনিয়মতান্ত্রিকভাবে সার ডিলার সুপারিশের পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি অনুদানের বিভিন্ন প্রকারের কৃষি যন্ত্রপাতি অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, কৃষি অফিসার সৈয়দা নাসরিনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহ নিরপেক্ষ ও সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করলে কৃষি দপ্তরের ভেতরের আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য ও অনিয়মের খবর বেরিয়ে আসবে।স্মারকলিপিতে নির্দিষ্ট কয়েকটি ইউনিয়নের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।

 

জহুরপুর ইউনিয়নের মেসার্স কাজী এন্টারপ্রাইজের শিমুল হোসেন এবং বন্দবিলা ইউনিয়নের মেসার্স রনা এন্টারপ্রাইজের আজিজুর রহমানকে সার ডিলার হিসেবে সুপারিশ করার ক্ষেত্রে তীব্র আপত্তি জানানো হয়। ধলগ্রাম ইউনিয়নের ধলগ্রাম বাজারের মেসার্স ফারুক ট্রেডার্সের সোহেল রানা ফারুককে তালিকায় যুক্ত করার প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সোহেল রানা আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন এবং তাঁর মনোনয়নে সরকারি কোনো নীতিমালা মানা হয়নি।

 

এ ছাড়া দোয়াহুলা ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা বাজারের মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্সের আবদুর রশীদের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলা হয়, বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামের সময় তিনি দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।   একইভাবে দরাজহাট ইউনিয়নের হাবুল্যা বাজারের মেসার্স ফয়সাল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ফয়সাল জামানের নাম তালিকায় আসা নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তিনি বিগত সরকারের সময় টিসিবির ডিলার হিসেবে সুবিধাভোগী ছিলেন বলে স্মারকলিপিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, বাসুয়াড়ি ইউনিয়নের চাঙভিটা বাজারের মেসার্স হাবিবুর ট্রেডার্সের প্রোপাইটর হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণা মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও তাঁকে সরকারি ডিলারশিপের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।

 

অভিযোগ রয়েছে, হাবিবুরের নিজস্ব কোনো সার সংরক্ষণের গুদাম নেই; অন্যের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে জালিয়াতির মাধ্যমে নিজস্ব গুদাম হিসেবে দেখিয়ে তিনি এই সুপারিশ বাগিয়ে নিয়েছেন।   এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে গত ১১ অক্টোবর স্মারকলিপি হস্তান্তরের পর বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে এক প্রতিবাদী বিক্ষোভ মিছিল বের করেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।

 

বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুর রহমান, পৌর সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান মিন্টু, উপজেলা সহসভাপতি অনিচুর রহমান, রায়পুর ইউনিয়ন সভাপতি আব্দুস সালাম সৌদি, নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শিকদার, ধলগ্রাম ইউনিয়ন সভাপতি খয়বার হোসেন মোল্লা, উপজেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক এম এ মানিক এবং বিএনপি নেতা হারুনর রশিদসহ অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।  

 

এ বিষয়ে বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সার মনিটরিং কমিটির সভাপতি ভুপালী সরকার জানান, গত ১১ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের মিটিংয়ে থাকার কারণে তিনি দপ্তরে না থাকলেও সার ডিলার নিয়োগসংক্রান্ত লিখিত একটি অনুলিপি তাঁর কার্যালয়ে গৃহীত হয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনাসাপেক্ষে উত্থাপিত অভিযোগ ও অনিয়মসমূহ তদন্ত করে দেখা হবে এবং নথিপত্রে কোনো অসঙ্গতি থাকলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   


এ সম্পর্কিত আরো খবর