ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬,  ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তাড়াশে পিপিআর রোগে ৪০ ছাগলের মৃত্যু, শেষ হয়ে গেছে টিকার মজুত


  • আপলোড সময় : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৬:০৮ পিএম

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ছাগলের মারণব্যাধি ‘পিপিআর’ (পেস্টে ডেস পেটিটস রুমিন্যান্টস) রোগের আশঙ্কাজনক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৩৫ থেকে ৪০টি ছাগল মারা গেছে বলে স্থানীয় খামারি ও ছাগল পালনকারীরা জানিয়েছেন। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে নতুন করে অতিপ্রয়োজনীয় পিপিআর ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় ছাগল পালনকারী ও খামারিদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।


উপজেলার স্থানীয় ছাগল পালনকারী আবুল হোসেন, মোয়াজ্জেম হোসেন ও রাসিদা খাতুন জানান, গত কয়েক দিন ধরে তাড়াশের গ্রামাঞ্চলে একের পর এক ছাগল অসুস্থ হয়ে মারা যাচ্ছে। সময়মতো প্রতিষেধক টিকা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা না গেলে সংক্রামক এই রোগটি পুরো উপজেলাজুড়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পিপিআরের এমন প্রাদুর্ভাব সত্ত্বেও তাড়াশ উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে চাহিদার তুলনায় টিকার বরাদ্দ অত্যন্ত অপ্রতুল। ফলে অনেক ছাগলকেই সময়মতো ভ্যাকসিনের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না, যার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র খামারিরা।


উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, তাড়াশের আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌর এলাকা মিলিয়ে ছাগলের জন্য পিপিআর ভ্যাকসিনের সার্বিক চাহিদা রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪ হাজার ডোজ। কিন্তু এই চাহিদার বিপরীতে শুরুতে কেবল ১৬ হাজার ডোজ বরাদ্দ পাওয়া গিয়েছিল। বর্তমানে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে টিকাদান চালাতে গিয়ে সেই সীমিত মজুতও সম্পূর্ণ শেষ হয়ে গেছে।


গ্রামাঞ্চলের শত শত পরিবার গৃহস্থালির পাশাপাশি অতিরিক্ত আয়ের আশায় ছাগল পালন করে জীবনযাত্রা নির্বাহ করেন। হঠাৎ মারণব্যাধি পিপিআরে ছাগল মারা যাওয়ায় এসব পরিবার এখন মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। তাই তাড়াশের খামারিরা জরুরি ভিত্তিতে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন সরবরাহের পাশাপাশি প্রাদুর্ভাব কবলিত এলাকাগুলোতে প্রাণিসম্পদ বিভাগের বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন, সার্বক্ষণিক নজরদারি ও বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা জোরদার করার জোর দাবি জানিয়েছেন।


উদ্ভূত সংকট প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শরিফুল ইসলাম জানান, মূল চাহিদার তুলনায় জেলা থেকে অতিরিক্ত কম পরিমাণে ভ্যাকসিন পাওয়ায় এই সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে জরুরি ভিত্তিতে নতুন করে বাড়তি ভ্যাকসিনের চাহিদা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। নতুন চালানের সরবরাহ পাওয়া মাত্রই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুরো উপজেলায় জোরদার টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর