অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে স্বপ্নের মতো ওয়ানডে অভিষেক রাঙানোর পর এবার শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে একাই ধূলিসাৎ করে বিশ্ব ক্রিকেটে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন পাকিস্তানের তরুণ অলরাউন্ডার আরাফাত মিনহাস। মাত্র ২১ বছর বয়সেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের জাত চিনিয়েছেন এই বাঁহাতি সেনসেশন। ব্যাট হাতে দলের চরম বিপদের মুহূর্তে দুর্দান্ত এক ফিফটি হাঁকানোর পর বল হাতে ঘূর্ণি জাদু দেখিয়ে একাই শিকার করেছেন ৬টি উইকেট। এর মধ্য দিয়ে কিংবদন্তি শহীদ আফ্রিদি ও আবদুল রাজ্জাকের মতো দেশের ইতিহাসের এলিট ক্লাবে নিজের নাম লিখিয়েছেন উদীয়মান এই অলরাউন্ডার।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত দুর্দান্ত ম্যাচে মাত্র ৫৮ বলে অত্যন্ত দায়িত্বশীল ৫৯ রানের একটি মূল্যবান ইনিংস খেলেন আরাফাত। যখন দলের ব্যাটিং লাইনআপ ধসে পড়ে ১৩৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল, ঠিক তখনই ষষ্ঠ উইকেটে হাসান নেওয়াজ এবং সপ্তম উইকেটে ফাহিম আশরাফকে সঙ্গে নিয়ে দলকে সম্মানজনক ৩০০ ছাড়ানো সংগ্রহ এনে দেন তিনি। ব্যাট হাতে নিজের কাজটি সুচারুভাবে সম্পন্ন করার পর বল হাতে উইকেটে ঝড় তোলেন এই বাঁহাতি স্পিনার। মাত্র ৩০২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নামা ইংলিশ ওপেনারদের ভয়ঙ্কর জুটি ভাঙার পর তিনি একে একে সাজঘরে ফেরান টম ব্যান্টন, অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক, জর্ডান কক্স, উইল জ্যাকস, জেমি ওভারটন ও আদিল রশিদকে। ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি ব্রুককে বোকা বানিয়ে ক্লিন বোল্ড করার নান্দনিক দৃশ্যটি ক্রিকেটপ্রেমীদের দীর্ঘকাল মনে থাকবে। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত স্পেলে মাত্র ৪০ রান খরচ করে ৬টি উইকেটের পতন ঘটিয়ে ম্যাচ নিজেদের মুঠোয় পুরেন তিনি।
এর আগে চলতি বছরের মে মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে ফরম্যাটে দুর্দান্ত অভিষেকেই মাত্র ৩২ রান দিয়ে ৫ উইকেট শিকার করে বিশ্বজুড়ে হৈচৈ ফেলে দিয়েছিলেন আরাফাত। ওয়ানডে অভিষেকে ৫ উইকেট নেওয়া তিনিই প্রথম কোনো পাকিস্তানি বোলার। ২০০৫ সালের ২ জানুয়ারি পাকিস্তানের ঐতিহাসিক শহর মুলতানে জন্ম নেওয়া এই ক্রিকেটারের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয় ২০২৩ সালে চীনের হাংজুতে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে হংকংয়ের বিপক্ষে। ঘরোয়া ক্রিকেটে পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) তিনি নিয়মিত মুখ এবং বর্তমানে মুলতান সুলতানের হয়ে খেলছেন। এছাড়া তার ছোট ভাই সামির মিনহাসও বয়সভিত্তিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছেন।
ক্রিকেটীয় এই সাফল্যের পেছনে মূল অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছেন তাঁদের গর্বিত বাবা কাশিফ মিনহাস। যিনি একসময় নিজে পেশাদার ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও পরবর্তীতে সন্তানদের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সর্বস্ব বিলিয়ে দেন। স্থানীয় ক্রিসেন্ট ক্রিকেট ক্লাবে দুই ছেলেকে ভর্তি করিয়ে নিজেই তাদের ক্রিকেটের প্রাথমিক পাঠ দেন এই বাবা, যিনি পেশায় একজন ক্রীড়া আলোকচিত্রী। মাঠে বাবা ও ছেলের এই সাফল্যের গল্প আজ পুরো পাকিস্তানের ক্রীড়াঙ্গনে অনুপ্রেরণার এক অন্যতম বড় উৎসে পরিণত হয়েছে।