সৌদি
আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শায়বাহ তেলক্ষেত্রে অবস্থিত সৌদি আরামকোর একটি প্রক্রিয়াকরণ স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এক ড্রোন হামলার
ঘটনা ঘটেছে। আকস্মিক এই হামলায় ঘটনাস্থলেই
দুই প্রবাসী কর্মী নিহত হয়েছেন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুজন। বুধবার সকালে এই স্পর্শকাতর জ্বালানি
স্থাপনায় হামলাটি চালানো হয় বলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে সৌদির জ্বালানি মন্ত্রণালয়।
সৌদি
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, শায়বাহ তেলক্ষেত্রটির একটি প্রক্রিয়াকরণ স্থাপনাকে লক্ষ্য করে একটি হামলাকারী ড্রোন ধেয়ে আসছিল। তবে সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে তৎপর হয়ে ড্রোনটিকে মাঝআকাশেই প্রতিহত করতে সক্ষম হয়। ড্রোনটি লক্ষ্যবস্তুতে সরাসরি আঘাত হানতে না পারলেও এর
ধ্বংসাবশেষ এবং হামলার তীব্রতার কারণে স্থাপনাটির সীমানার ঠিক বাইরে অনাকাঙ্ক্ষিত অঘটন ঘটে। তেলক্ষেত্রে কর্মরত একটি চুক্তিভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন একটি গাড়িতে আগুন ধরে যায়। আকস্মিক এই অগ্নিকাণ্ড ও
বিস্ফোরণের ফলে সেখানে অবস্থানরত প্রবাসীরা হতাহত হন। তবে এই হামলায় তেলক্ষেত্রের
মূল অবকাঠামো কিংবা তেল উত্তোলনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে কোনো ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
জ্বালানি
মন্ত্রণালয় থেকে নিহতের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে যে, ড্রোন হামলায় প্রাণ হারানো দুই প্রবাসীর একজন ফিলিপাইনের এবং অন্যজন নেপালের নাগরিক। এছাড়া এই ঘটনায় পাকিস্তানের
একজন এবং ভারতের একজন নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তাদের জরুরি চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট সব জরুরি সেবা
ও নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনাসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ
করে।
সৌদি
জ্বালানি মন্ত্রণালয় এই মর্মান্তিক ঘটনায়
গভীর শোক প্রকাশ করেছে। একই সাথে তারা নিহত প্রবাসীদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে এবং চিকিৎসাধীন আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছে। হামলার পর ওই তেলক্ষেত্র
ও তার আশেপাশের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।