গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধসহ নানা দাবিতে রাজধানীতে মহাসমাবেশ ও লংমার্চের বড় কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া অভিমুখে এই বিশাল লংমার্চ শুরু হয়। বিরোধীদলীয় নেতা ও শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে হাজার হাজার নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে সকাল থেকেই বায়তুল মোকাররম ও সংলগ্ন এলাকাগুলো সরগরম হয়ে ওঠে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের এই বহুল আলোচিত লংমার্চ যাত্রা শুরু করে। লংমার্চ পূর্ব উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এইচএম হামিদুর রহমান আযাদের উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে সমাবেশের কাজ শুরু হয়। পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ক্বারী বেলাল হোসেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এই লংমার্চ কেবল কোনো সাধারণ কর্মসূচি নয়, এটি জনগণের অধিকার ও দাবি আদায়ের সংগ্রাম। তিনি অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ সম্পন্ন করার জোর দাবি জানান, অন্যথায় সরকারকে ক্ষমতা ছাড়ার হুঁশিয়ারি দেন। এছাড়াও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন দাম বৃদ্ধির ফলে জনগণের নাভিশ্বাস উঠে যাওয়ার চিত্র তুলে ধরে সরকারের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানী, আমার বাংলাদেশ পার্টির সভাপতি মুজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম এবং ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ সারির নেতৃবৃন্দ।