মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র সংঘাতের মধ্যেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে ভয়াবহ জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার প্রণালিটি অতিক্রম করার সময় সাগরে পুঁতে রাখা মাইনের আঘাতে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিকট বিস্ফোরণ ঘটে। একই দিনে পৃথক স্থানে অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে আরও একটি বাণিজ্যিক জাহাজ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী এ হামলার তথ্য প্রকাশ্যে এনে দাবি করে, অনুমোদনহীন বিকল্প পথে চলাচল করার সময় জাহাজ দুটি সাগরে পাতা সামুদ্রিক মাইনে আঘাত হানে।
যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউকেএমটিও এক জরুরি বার্তায় জানায়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় একটি বাণিজ্যিক জাহাজের ক্যাপ্টেন বিপৎসংকেত (মেডে) পাঠিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানান। ওই বার্তায় বলা হয়, তাদের কাছাকাছি থাকা অন্য একটি জাহাজ হঠাৎ অজ্ঞাতপরিচয় বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিপদে পড়েছে। এই অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনায় কৌশলগত জ্বালানি পরিবহন জলসীমায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরজিসির নৌবাহিনীর উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, নির্ধারিত নিরাপত্তা দিকনির্দেশনা না মেনে চলতেই সমুদ্রবক্ষে পুঁতে রাখা মাইন সক্রিয় হয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটায়। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাংকারগুলোর মালিকানা ও নাবিকদের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমানায় নিরাপত্তা রক্ষায় ওই এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
এর মাত্র দুদিন আগে শুক্রবার কাতার নিউজ এজেন্সি তাদের এক প্রতিবেদনে কাতারের একটি গ্যাসবাহী ট্যাংকারে সন্ত্রাসী হামলার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, কাতার গ্যাস ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির মালিকানাধীন ‘আল-মায়েদা’ নামের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনকারী জাহাজটি উপসাগরীয় জলসীমা অতিক্রম করার সময় অজ্ঞাত বস্তুর হামলার শিকার হয়। তবে কাতার কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, ওই হামলায় কোনো নাবিক হতাহত হননি এবং সামুদ্রিক পরিবেশেরও কোনো ক্ষতি হয়নি। বর্তমানে জাহাজটি নিরাপদ স্থানে রয়েছে ও স্বাভাবিকভাবে চলাচলের উপযোগী অবস্থায় রয়েছে।