যুক্তরাষ্ট্রের
সঙ্গে ইরানের কূটনৈতিক আলোচনা চলার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ওই
হামলায় ইরানের সাবেক সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতা ও সামরিক কমান্ডার
নিহত হন। এই ঘটনার প্রসঙ্গে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, তারা হয়তো ইরানি নেতাদের হত্যার ক্ষেত্রে কিছুটা বেশিই বাড়াবাড়ি করে ফেলেছেন।
স্থানীয়
সময় রোববার আইওয়া অঙ্গরাজ্যের ডুবুকিউতে অনুষ্ঠিত এক বিশাল জনসভায়
বক্তব্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে পুরোপুরি
ধ্বংস করে দিয়েছে, তাদের বিমান বিধ্বংসী রাডার ধ্বংস করেছে এবং তাদের শীর্ষ নেতাদের হত্যা করেছে। তবে নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করার ক্ষেত্রে আমরা সম্ভবত একটু বেশি বাড়াবাড়ি করে ফেলেছি—যা নিয়ে সাধারণত
কেউ কথা বলে না।”
জনসভায়
ট্রাম্প ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযানের পক্ষে সাফাই গেয়ে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র নয়, ইরানই মূলত এ যুদ্ধের সূচনা
করেছিল আর তারা কেবল
এটি শেষ করছেন। বিশ্বমঞ্চে সন্ত্রাসবাদের অন্যতম প্রধান মদদদাতা দেশের হাত থেকে নিজ দেশকে রক্ষা করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ভাষণে
১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর থেকে মার্কিন
স্বার্থের ওপর একের পর এক হামলার
জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করেন ট্রাম্প। এমনকি ২০০০ সালে ইয়েমেনের এডেন উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস কোল’-এ হামলার জন্যও
তিনি ইরানকে দায়ী করেন, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে ওই হামলার দায়
স্বীকার করেছিল আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল কায়দা। এছাড়া
ইরাকে রাস্তার পাশে পুঁতে রাখা বোমায় মার্কিন সেনাদের প্রাণহানির পেছনেও তিনি তেহরানের ভূমিকা তুলে ধরেন।
ইরাকে
মার্কিন সেনা হত্যার প্রতিশোধ হিসেবেই কুদস ফোর্সের সাবেক প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে ২০২০ সালে বাগদাদে বিমান হামলায় হত্যা করা হয়েছিল বলে জানান ট্রাম্প। সোলাইমানিকে ‘রাস্তার পাশের বোমার জনক’ আখ্যা দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন, ইরান বহু আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রচ্ছন্ন যুদ্ধ চালিয়ে আসছিল। ট্রাম্পের ভাষায়, “তারা এ যুদ্ধ শুরু
করেছে, আমরা নয়। আমরা এখন সেই যুদ্ধ শেষ করছি এবং তাদের চরমভাবে পরাজিত করছি।”সূত্র: আল জাজিরা