ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬,  ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন, মোট ছুটি ২৯ দিন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: জয়-পরাজয়ের পাল্লা কোন দিকে? কোম্পানীগঞ্জে মিলল গ্যাস, ২০ বছর উত্তোলনের পরিকল্পনা মিরপুরে সংঘাত ও অগ্নিসংযোগ: ৪ মামলায় সাড়ে ১০ হাজার আসামি যুদ্ধ শেষের খসড়া প্রস্তাব নিয়ে দোহা ছাড়ল ইরানি প্রতিনিধিদল মঙ্গলবার সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন মির্জা ফয়সল ও এলিজা অধিনায়ক আশরাফুলের দুর্দান্ত গোলে শক্তিশালী চীনকে রুখল বাংলাদেশ স্কুলের তালা ভেঙে নারী নিয়ে রাতভর নাচ, ভাইরাল ভিডিও চা থেকে চিরদিন: রাজধানীতে তরুণ-তরুণীদের ব্যতিক্রমী চা-চক্র এআই দিয়ে ছবি বানিয়ে বিপাকে কংগ্রেস, কটাক্ষ করলেন কিরেন রিজিজু

চা থেকে চিরদিন: রাজধানীতে তরুণ-তরুণীদের ব্যতিক্রমী চা-চক্র


  • আপলোড সময় : সোমবার ০২ নভেম্বর, ২০২৬ সময় : ৮:০১ পিএম

প্রথাগত ম্যাট্রিমোনিয়াল সাইট কিংবা বায়োডাটার ভিড় ঠেলে জীবনসঙ্গী খোঁজার এক অভিনব ও আধুনিক ধারা চালু হয়েছে রাজধানীতে। বাহ্যিক রূপের চেয়ে ব্যক্তিত্ব এবং মানসিক বোঝাপড়াকে প্রাধান্য দিয়ে ‘পায়রা’ নামক একটি প্ল্যাটফর্ম আয়োজন করেছে জমজমাট এক চা-চক্র, যেখানে অংশ নিয়েছিলেন অর্ধশতাধিক অবিবাহিত তরুণ-তরুণী। প্রথাগত ডেটিং বা গতানুগতিক পাত্র-পাত্রী খোঁজার ধারা থেকে বের হয়ে সামনাসামনি পরিচয় ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে সম্ভাব্য জীবনসঙ্গী খুঁজে নেওয়ার একটি নিরাপদ ও শালীন পরিসর তৈরি করাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।


সম্প্রতি রাজধানীর গুলশানের অভিজাত লেকশোর হোটেলে ‘চা থেকে চিরদিন’ শীর্ষক এই ব্যতিক্রমী চা-চক্র অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সমানসংখ্যক অর্থাৎ ৩০ জন পুরুষ ও ৩০ জন নারী অংশগ্রহণ করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি কোনো সাধারণ স্পিড-ডেটিং বা গতানুগতিক ম্যাট্রিমোনিয়াল ইভেন্ট নয়। বরং সরাসরি দেখা ও কথোপকথনের মধ্য দিয়ে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সামঞ্জস্যতার সম্ভাবনা যাচাইয়ের একটি রুচিশীল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এটি কাজ করছে।


অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা সাবরিনা ইসলাম তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করে জানান, তাঁর পরিবারের সদস্যরা সবাই বিদেশে অবস্থান করায় দেশে তাঁর জন্য পাত্র খোঁজার মতো কেউ নেই। এমন পরিস্থিতিতে এই আয়োজন তাঁর জন্য দারুণ এক সুযোগ সৃষ্টি করেছে। আরেক অংশগ্রহণকারী তরুণ উদ্যোক্তা আলী হাসান প্রিন্স বলেন, অনলাইনে পরিচয়ের অনেক মাধ্যম থাকলেও সেখানে প্রতারণার ঝুঁকি ও ভুয়া পরিচয়ের শঙ্কা থাকে। জীবনের এত বড় ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের জন্য মুখোমুখি খোলামেলা আলোচনা অনেক বেশি নিরাপদ এবং সম্মানজনক।


পায়রা প্ল্যাটফর্মের প্রধান নির্বাহী (সিইও) মোশারাত আহমেদ মেহেক বলেন, তাঁদের এই প্ল্যাটফর্মে কাউকে কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো করে বিয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হয় না। মানুষকে সঠিক ও মানানসই সঙ্গী খুঁজে পেতে, নিজেদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে তাঁরা সার্বিক সহযোগিতা করে থাকেন।


এদিকে, প্ল্যাটফর্মটির সাম্প্রতিক এক জরিপের তথ্য তুলে ধরে আয়োজকরা জানান, বর্তমান প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরা জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাহ্যিক পরিচয়ের চেয়ে ব্যক্তিত্ব এবং পারস্পরিক সমঝোতাকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সচেতনতার চিত্র উঠে এসেছে ওই জরিপে। জরিপে অংশ নেওয়া ১৫ দশমিক ৭ শতাংশ উত্তরদাতা পুরোপুরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-নির্ভর ম্যাচমেকিংয়ের ওপর আস্থা রাখার কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ৮১ শতাংশ উত্তরদাতা অভিজ্ঞ ম্যাচমেকার এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বিত সেবার পক্ষে জোরালো মত দিয়েছেন।


পায়রা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্ভাব্য জীবনসঙ্গী খোঁজার পরিধি আরও বাড়াতে চায়। তবে প্রোফাইল পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ায় সবসময় অভিজ্ঞ পরামর্শকদের যুক্ত রাখা হয়। প্ল্যাটফর্মটিতে যাচাইকৃত প্রোফাইল, সর্বোচ্চ গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকার পাশাপাশি ধাপে ধাপে উভয় পরিবারকে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার চমৎকার সুযোগ রাখা হয়েছে।


প্ল্যাটফর্মটির প্রধান অপারেটিং কর্মকর্তা (সিওও) মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং মুসলিম পারিবারিক সংস্কৃতির কথা মাথায় রেখে প্রযুক্তি ও অনুভূতির নিখুঁত সমন্বয় ঘটিয়ে তারা কাজ করে যাচ্ছেন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষ যেন তাদের এই প্ল্যাটফর্ম থেকে সেরা মানুষটিকে খুঁজে পায় এবং একটি দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই সম্পর্ক গড়ে তুলতে সক্ষম হয়।


এর আগে গত জুলাই মাসে মাত্র ২০ জন প্রার্থীকে নিয়ে একই ধরনের একটি চা-চক্রের আয়োজন করেছিল পায়রা। আয়োজকদের দাবি, সেবার ওই ছোট্ট আয়োজনে চার জোড়া প্রার্থী পারস্পরিক সম্মতি প্রকাশ করেন এবং তাদের মধ্যে এক জোড়া মাত্র তিন সপ্তাহের ব্যবধানে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এবারের আয়োজনে অংশগ্রহণকারী তরুণ-তরুণীর সংখ্যা বেড়ে ৬০ জনে পৌঁছানোয় এই ধরনের উদ্যোগের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও আগ্রহ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


গ্রাহকসেবার মান আরও উন্নত ও যুগোপযোগী করতে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নিজস্ব একটি মোবাইল অ্যাপ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে পায়রা কর্তৃপক্ষ।


এ সম্পর্কিত আরো খবর