ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬,  ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

মিরপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ: ৫ মামলায় গ্রেফতার ৩০


  • আপলোড সময় : সোমবার ০২ নভেম্বর, ২০২৬ সময় : ৭:২৪ পিএম

রাজধানীর মিরপুর শিল্পাঞ্চল যেন ফের এক উত্তাল রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকায় উন্নীত করার দাবিতে আন্দোলনরত পোশাক শ্রমিকদের সাথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দফায় দফায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও পুলিশি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের মতো উত্তেজনাকর ঘটনার পর এবার কঠোর আইনি অবস্থানে প্রশাসন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা রোধে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ইতিমধ্যে অন্তত ৩০ জনকে আটক এবং পাঁচটি পৃথক মামলা দায়ের করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।


সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রবিবার মিরপুর এলাকায় সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেই সময় বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা পুলিশের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। এই ঘটনার পর থেকেই পুরো মিরপুর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং সোমবার সকাল থেকেই এলাকা জুড়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য ও সাঁজোয়া যান মোতায়েন করা হয়েছে।


ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম জানান, শ্রমিক আন্দোলনের নামে কেউ যাতে সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে না পারে এবং শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রবিবারে ঘটে যাওয়া সংঘর্ষ ও গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মোট ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে।


শ্রমিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে তারা জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় বহিরাগত ও স্বার্থান্বেষী মহলের অনুপ্রবেশের কারণে আন্দোলন প্রায়শই সহিংস রূপ নিচ্ছে। অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বারবার সতর্ক করে বলেছে যে, সাধারণ শ্রমিকদের ঢাল বানিয়ে যারা সরকারি সম্পত্তি নষ্ট ও জননিরাপত্তা বিপন্ন করবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। বর্তমানে মিরপুরের বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর কঠোর নজরদারির মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর