রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতা, পুলিশের ওপর হামলা, ট্রাফিক বক্স ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ এবং সরকারি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা পৃথক মামলায় কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গ্রেফতারকৃত ২৬ জন আসামিকে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে রাজনৈতিক মদদ ও নাশকতা চালানোর অভিযোগে এই আসামিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও বিস্ফোরক আইনে মামলাগুলো রুজু করা হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম ও কালাম উদ্দিনের আদালত পৃথক শুনানি শেষে এই কারাদণ্ডের আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম এবং এসআই আবু বক্কর সাংবাদিকদের কাছে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, পল্লবী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা একটি মামলায় ১৩ জন, বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় করা পল্লবী থানার আরেকটি মামলায় ৭ জন এবং মিরপুর মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় ৬ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ১ নভেম্বর পল্লবী থানার মিরপুর-১২ এলাকায় শ্রমিকদের আন্দোলন চলাকালে দুই থেকে আড়াই হাজার মানুষের একটি দল আকস্মিক পুলিশের ওপর চড়াও হয়। এ সময় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয় এবং পুলিশের একটি সরকারি পিকআপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ককটেলের বিস্ফোরিত অংশ ও পেট্রোলভর্তি দুটি প্লাস্টিকের বোতল জব্দ করে। পুলিশের অভিযোগ, এই আন্দোলনের অন্তরালে নিষিদ্ধঘোষিত রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অনুপ্রবেশ করে সহিংসতা উসকে দিয়েছিল।
অন্যদিকে, মিরপুর মডেল থানার মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১ নভেম্বর সকাল ৮টার দিকে মিরপুর-১০ গোলচত্বরে কয়েকটি পোশাক কারখানার তিন থেকে চার হাজার শ্রমিক ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মাসিক বেতনের দাবিতে জড়ো হন। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাদের মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়টি বুঝিয়ে কাজে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানালেও আন্দোলনকারীদের একটি উগ্র অংশ ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। একপর্যায়ে মিরপুর-১০ এলাকার ট্রাফিক পুলিশ বক্স ভাঙচুর করা হয় এবং ইটের আঘাতে সামিয়া নামের এক নারী পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বাধ্য হয়ে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।
আদালতে পেশকৃত রিমান্ড ও আটক রাখার আবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন যে, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং বাকি পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আসামিরা জামিনে মুক্তি পেলে তদন্ত কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটতে পারে এবং তারা পালিয়ে যেতে পারেন—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের কারাগারে আটক রাখার প্রার্থনা জানানো হয়, যা আদালত মঞ্জুর করেন।