ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬,  ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়ে প্রবেশে কড়াকড়ি: সোম ও বৃহস্পতিবার ঢুকতে পারবেন না দর্শনার্থীরা ফ্লোরিডার ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ গভর্নর হলেন রিপাবলিকান বায়রন সাভার ও গাজীপুরে ফের সড়ক অবরোধ, টিয়ারশেল ছুড়ল পুলিশ জর্জিয়ায় ইতিহাস গড়ে বিজয়ী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কেইশা ল্যান্স বটমস গাজীপুরে পিটুনিতে আহত পোশাক শ্রমিকের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু নির্বাচনে হেরে গেলে কী হবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের? মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচন: ১৬ আসনের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয় এসআরবির মহাপরিচালকসহ পুলিশের সাত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বদলি ট্রাম্পের নেতৃত্ব ও অর্থনীতি নিয়ে অসন্তুষ্ট অধিকাংশ মার্কিন ভোটার শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে আজ পোশাক খাতের মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা

ঢাবিতে ইয়ুথ লিডারশিপ সামিট ও সচেতন নাগরিক মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬ সময় : ৮:৩৯ পিএম

তরুণ প্রজন্মের নবীন চিন্তায় ডানা মেলেছে আগামী বাংলাদেশের স্বপ্ন, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপে উচ্চারিত হচ্ছে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও নৈতিকতার জয়গান। আগামী দিনের সৎ ও দূরদর্শী নেতৃত্ব গড়ে তোলার ঐতিহাসিক রূপরেখা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অত্যন্ত উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো ‘ডাকসু ইয়ুথ লিডারশিপ সামিট ২০২৬ | জেনএএফ কনশাস সিটিজেন কনক্লেভ: ডেমোক্রেসি - এথিক্যাল লিডারশিপ - জাস্টিস’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এবং জাগ্রত নাগরিক ফাউন্ডেশন (জেনএএফ)-এর সম্মিলিত ও যৌথ দূরদর্শী উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশাল আয়োজনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত শত শত শিক্ষার্থী ও সম্ভাবনাময় তরুণ প্রতিনিধি অভূতপূর্ব উৎসাহ নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। এই সামিটের মূল উদ্দেশ্য ছিল তরুণ সমাজের মনে সুদৃঢ় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা, সামাজিক জবাবদিহিতা ও নৈতিক নেতৃত্বের চেতনাকে উজ্জ্বলভাবে জাগিয়ে তোলা।


অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষাবিদ, জাগ্রত নাগরিক ফাউন্ডেশনের সম্মানিত চেয়ারম্যান এবং হার্ভার্ড ও বোস্টন ইউনিভার্সিটির সাবেক ফিন্যান্সিয়াল ইকোনমিক্স অধ্যাপক ড. শেখ আব্দুল হামিদ প্রোগ্রাম চেয়ার হিসেবে পুরো আয়োজনের দায়িত্বশীল সভাপতিত্ব করেন। দুপুরের সূচনাপর্বে দুপুর ১:৩০ মিনিটে আমন্ত্রিত বিশিষ্ট অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের সৌহার্দ্যপূর্ণ অভ্যর্থনা জানানোর মধ্য দিয়ে কনক্লেভের আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু হয়। পবিত্র বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে ভক্তিপূর্ণ পাঠ এবং অডিটোরিয়ামে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের পর মূল পর্বের সূচনা ঘটে। শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য পাঠ করেন জেনএএফ-এর সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান ইমন এবং ডাকসুর সম্মানিত প্রতিনিধি। আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উঠে আসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষ ও তীক্ষ্ণ বিতার্কিকদের বুদ্ধিদীপ্ত অংশগ্রহণে পরিবেশিত এক অনবদ্য ‘শো পার্লামেন্টারি ডিবেট বা ছায়া সংসদীয় বিতর্ক’।


বিতর্কের জন্য নির্ধারিত ও সময়োপযোগী বিষয়বস্তু ছিল, “এই সংসদ গণতন্ত্র পুনর্গঠনের স্বার্থে প্রতিষ্ঠান সংস্কারের চেয়ে নৈতিক সমাজ গঠনকে বেশী প্রাধান্য দেবে”। সরকারি দলের প্রতিনিধিত্ব করে চমৎকার যুক্তি উপস্থাপন করেন ফারিয়া আরাফাত, উম্মে সুহালা ও মো. সাজিদুল ইসলাম। অন্যদিকে বিরোধী দলের সুসংহত অবস্থান তুলে ধরেন বিতার্কিক সাব্বির আহমেদ শিশির, নাহিদা সুলতানা ও তানিম বিন কাইয়ুম। তক্ষ ও যুক্তিপূর্ণ বিতর্ক শেষে তরুণদের নীতি নির্ধারণী মেধা প্রকাশের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয় একটি দৃষ্টিনন্দন শ্যাডো ক্যাবিনেট বা ছায়া মন্ত্রিসভা প্রেজেন্টেশন, যা মিলনায়তনে উপস্থিত দর্শকদের ব্যাপকভাবে আপ্লুত ও অনুপ্রাণিত করে। পরবর্তীতে সংগঠনের কল্যাণমুখী কার্যক্রম চিত্রিত করে একটি বিশেষ অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন মো. রাকিবুল ইসলাম রাজু। বিশ্ব রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তরুণদের মেধা ও কূটনীতির অবদান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান দূতাবাসের সম্মানিত প্রতিনিধিবৃন্দ।


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সুশাসন ও আইনের শাসন নিয়ে কথা বলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মির্জা হুসেইন হায়দার, সংগঠনের ভাইস চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. নাসিমুল গনি, পিএইচডি এবং ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইন্সটিটিউট (আইআরআই)-এর রেসিডেন্ট প্রোগ্রাম ডিরেক্টর জন ফ্লুহার্টি। আয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর সম্মানিত সহ-সভাপতি (ভিপি) মো. আবু সাদিক তরুণদের জাতীয় রাজনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা নিয়ে আবেগঘন ও প্রেরণাচ্ছন্ন বক্তব্য প্রদান করেন। বিকেলের জ্ঞানগর্ভ পর্বে “দ্য ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস অ্যাজ অ্যান ইনকিউবেটর অব এথিক্যাল লিডারশিপ” শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনা পরিচালিত হয়। ডাকসু সদস্য আনাস ইবনে মুনিরের নিখুঁত সঞ্চালনায় প্যানেলিস্ট হিসেবে মতবিনিময় করেন শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)-এর ইইই বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহরিয়ার খান।


প্যানেল আলোচনা শেষে উন্মুক্ত ও প্রাণবন্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণকারী সাধারণ শিক্ষার্থীরা সরাসরি অতিথিদের গঠনমূলক প্রশ্ন করে মূল্যবান পরামর্শ গ্রহণ করেন। পরিশেষে প্রোগ্রাম চেয়ারের বিদায়ী সমাপনী বক্তব্য, বিতার্কিকদের মেধা স্মারক প্রদান, সম্মাননীয় অতিথিদের হাতে বিশেষ সংবর্ধনা স্মারক তুলে দেওয়া এবং নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের মাঝে সার্টিফিকেট বিতরণের মাধ্যমে এই সফল ইয়ুথ সামিটের সমাপ্তি ঘটে। সংবেদনশীল ও সুসংগঠিতভাবে পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন ডাকসুর নির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা, জেনএএফ-এর সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মো. সানজিদ আহমেদ সজীব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কাজী হাফসা জাহান।


এ সম্পর্কিত আরো খবর