ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬,  ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মণিপুরে নতুন করে জাতিগত সহিংসতায় নিহত ৫ অনুর্বর জমিতে ৩০ দিনেই ফুটলো জাফরান, লাদাখে কৃষির নতুন সম্ভাবনা অন্ধ্রপ্রদেশের দিকে ধেয়ে আসছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ ই-রিকশার গতিসীমা ২৫ কিলোমিটার নির্ধারণ, ৮ জোনে ভাগ হচ্ছে ঢাকা ভূমিকম্প মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর সামরিক মনোবল ভাঙন ও ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ: চরম সংকটে ইসরায়েল নির্বাচন শেষ হলেই ইরানে হামলার তাগিদ নেতানিয়াহুর, ট্রাম্পের নজর কূটনীতিতে গার্মেন্টস খাতে অস্থিতিশীলতা বরদাশত নয়, কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাল্লুকের সঙ্গে ধাক্কায় ট্রেন লাইনচ্যুত: অলৌকিকভাবে রক্ষা পেলেন যাত্রীরা সংসদের শূন্য ঘোষিত আসনে বিনাপ্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত এলিজা জামান

এইচএসসি ফল বিপর্যয় নয়, পুঞ্জীভূত শিখন ঘাটতিরই বহিঃপ্রকাশ


  • আপলোড সময় : সোমবার ০২ নভেম্বর, ২০২৬ সময় : ১১:৪৮ এএম

প্রকাশিত এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল শিক্ষার সার্বিক মান ও অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোগত সংকটকে নতুন করে আলোচনার শীর্ষে নিয়ে এসেছে। চলতি বছর পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ, যা গত ৩৬ বছরের ইতিহাসে দ্বাদশ সর্বনিম্ন। তবে সামগ্রিক পাসের হারের চেয়েও বহুগুণ উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর বিশাল সংখ্যা।

 

এ বছর প্রায় ছয় লাখ শিক্ষার্থী ফেল করেছে, যা ১৯৯০ সালের পর সর্বোচ্চ। শিক্ষাক্ষেত্রের এমন সঙ্গিন পরিস্থিতিতে খোদ শিক্ষামন্ত্রী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে দেশের শিক্ষাবিদরা বলছেন, এই ফলাফলকে নিছক একটি পরীক্ষার ‘বিপর্যয়’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার সুযোগ নেই; এটি মূলত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা শিখন ঘাটতিরই এক করুণ বাস্তবতা।

 

শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের মতে, প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষার প্রতি ধাপে মারাত্মক দক্ষতার ঘাটতি বা ‘লার্নিং গ্যাপ’ থেকে যাচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায় শেষ করে আসা শিক্ষার্থীদের মান নিয়ে মাধ্যমিক পর্যায় সন্তুষ্ট হতে পারছে না; একইভাবে মাধ্যমিকের পড়াশোনা নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে আসা শিক্ষার্থীদের মান নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করছে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা উচ্চশিক্ষিত তরুণদের দক্ষতা নিয়ে প্রতিনিয়ত প্রশ্ন তুলছে আধুনিক চাকরির বাজার।

 

শিক্ষার সবকটি স্তরে তৈরি হওয়া এই গভীর শূন্যতা কাটাতে অবিলম্বে একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী শিক্ষা কমিশন গঠনসহ দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহণের জোর তাগিদ দিয়েছেন ড. এস এম হাফিজুর রহমান ও মোহাম্মদ মজিবুর রহমানের মতো শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাবিদরা।

 

শিক্ষা ব্যবস্থার এই জটিল সংকট নিরসনে নীতি নির্ধারণ ও শিক্ষাদান পদ্ধতির যুগোপযোগী সংস্কার এখন সময়ের দাবি। শিক্ষার্থীদের মূল দুর্বলতাগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করে আধুনিক শিখন পদ্ধতির মাধ্যমে ঘাটতি দূর করতে হবে। শিক্ষাবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত উপযুক্ত নীতিমালা গ্রহণ করা না গেলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের মানবসম্পদ গঠন অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে।

 

অন্যদিকে, শিক্ষা প্রশাসন দাবি করছে যে তারা সার্বিক সংকট মোকাবিলায় কার্যকর কাজ শুরু করেছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, শিক্ষা প্রশাসন এই শিখন ঘাটতির বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন। যোগ্য শিক্ষার্থীদের সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে এবং শিক্ষাদান ও শিখনপ্রক্রিয়াকে আনন্দময় ও শিক্ষার্থীবান্ধব করে গড়ে তুলতে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর